Image description

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে পুনরায় অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপাচার্যকে অবাঞ্চিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক সকল পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ববি শিক্ষক সমাজ।

আজ ১০মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের এক সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০এপ্রিল উপাচার্য, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার (বরিশাল) এবং ডিন মহোদয়গণের এক ত্রিপক্ষীয় সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ৮ মে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী চলমান সকল সংকটের সমাধান করা হবে।

কিন্তু উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। গত ৮ মে রাত ১০টায় হঠাৎ নোটিশ দিয়ে পরদিন ৯ মে বেলা ১১টায় একটি এজেন্ডাবিহীন জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সভায় বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে এবং অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় আরও গভীর সংকটে নিপতিত হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষক সমাজ।
 
এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ  থেকে পদত্যাগ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক তানভীর কায়ছার

প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করা সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘উপাচার্যের কার্যক্রমে আমিসহ সহকর্মী শিক্ষক-কর্মকর্তা সবাই হতাশ। উপাচার্য আমাদের সবার হক নষ্ট করছেন। বারবার অনুরোধের পরও কোনো কাজ না হওয়ায় আমি প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। শিক্ষকদের বারবার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তা পূরণ না করায় শিক্ষকরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, "সর্বশেষ জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, দুই মাসের মধ্যে পদোন্নতির সংবিধি প্রণয়ন করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদোন্নির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এখন শুনছি আমি নাকি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারা এ বিষয়ে কোনো ভিন্নমতও পোষণ করেননি বা নোট অব ডিসেন্টও দেননি। তাহলে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার কথা কীভাবে আসে? শিক্ষক কর্তৃক অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা ঘোষণা করতেই পারে। আমাকে সরকার এখানে দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে। সরকার যতদিন দায়িত্বে বহাল রাখবে, ততদিন নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালনে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

উল্লেখ, ২২এপ্রিল কমপ্লিট শাটডাউনে ক্লাস-পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে ৪মে শর্ত সাপেক্ষ শিক্ষক সমাজ পুনরায় ক্লাসও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন। এবং ২৮ই এপ্রিল শিক্ষক সমাজ সংবাদ সম্মেলনে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষনা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেশনজটের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বারংবার শাটডাউনের কারণে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সেশনজটে পড়তে পারেন তারা।