Image description
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অনুপাত (জিডিপি-রিজার্ভ অনুপাত) বাংলাদেশে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশের জিডিপি-রিজার্ভ অনুপাত ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোয় এ অনুপাত আরও বেশি। এশিয়ার অন্যান্য দেশেও এ অনুপাত বেশি। বাংলাদেশে জিডিপির তুলনায় রিজার্ভ বাড়ার হার কম হওয়ায় এমনটি হয়েছে। অন্য দেশগুলোয় জিডিপি বাড়ার সঙ্গে আনুপাতিক হারে রিজার্ভ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ফরেক্স মার্কেট অ্যান্ড রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট ২০২৪-২৫’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বৈদেশিক মুদ্রা ও রিজার্ভ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গ্রস রিজার্ভ যেমন ২০২২ সালের আগস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০৬ কোটি ডলারে উঠেছিল; তেমনই তা ২০২৪ সালের জুনে ২ হাজার ৬৭১ কোটি ডলারে নেমে এসেছিল। এর আগে রিজার্ভ আরও কমে গিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী করে। ২০২৫ সালের জুনে তা বেড়ে ৩ হাজার ১৭৭ কোটি ডলারে ওঠে। বর্তমানে গ্রস রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩ হাজার ৫৩০ কোটি ডলারে উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন পর্যন্ত রিজার্ভ বেড়েছে ৮৫৯ কোটি ডলার।

সূত্র জানায়, একটি দেশের জিডিপি-রিজার্ভের অনুপাত যত বেশি, ওই দেশের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাও তত বেশি। বাংলাদেশের এ অনুপাত কম মানে হচ্ছে ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কম। রিজার্ভ বেশি থাকলে বৈদেশিক বা স্থানীয় প্রাকৃতিক বা অন্য কোনো ঝুঁকি সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। বৈদেশিক ঝুঁকির ক্ষেত্রে তা বেশি ফলদায়ক। জরুরি আমদানির প্রয়োজন হলে রিজার্ভ দিয়ে তা মেটানো সম্ভব হয়। আর এ অনুপাত বেশি থাকলে বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়তি ফি বা চার্জ দিতে হয় না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের চূড়ান্ত হিসাবে বাংলাদেশের জিডিপি-রিজার্ভের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ অনুপাত সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ০৯ শতাংশে উঠেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময় ২০০৯ সালে এ অনুপাত ছিল ১০ দশমিক ০৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সময় তা কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৮২ শতাংশে। ওই সরকারের আমলে জিডিপি যে হারে বেড়েছে, সে হারে রিজার্ভ বাড়েনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের বেসরকারি খাতের গবেষণা সংস্থাগুলো ওই সময়ে একমত হতে পারেনি। তারা ওই সময়েই ভিন্নমত প্রকাশ করেছে। এর আগে ২০০০ সালে জিডিপি রিজার্ভের অনুপাত ছিল ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

অর্থনৈতিকভাবে একসময় দেউলিয়া শ্রীলংকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাদের রিজার্ভ-জিডিপির রেশিও ২০২৪ সালে বেড়ে ৬ দশমিক ১৬ এবং ২০০৯ সালে তা সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশে উঠেছিল। অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানের এ অনুপাত ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০০৩ সালে তা ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ উঠেছিল।

নেপালের জিডিপি-রিজার্ভ অনুপাত ২৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশে উঠেছিল। মালদ্বীপের এ অনুপাত ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২০ সালে তা ২৬ দশমিক ৫৩ শতাংশে উঠেছিল। ভারতের জিডিপি-রিজার্ভ অনুপাত ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০০৭ সালে তা ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশে উঠেছিল। ভুটানের এ অনুপাত ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ। ২০০০ সালে ৬৮ দশমিক ৯৪ শতাংশে উঠেছিল।