ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শনিবার বাস সার্ভিস চালু করতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বাজেট দিলেও ট্রেজারার আটকে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন— এমনটাই অভিযোগ করেছেন ডাকসু নেতারা। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিন্ডিকেট সভা চলাকালে বিক্ষোভ করেছেন ডাকসু নেতা ও একদল শিক্ষার্থী। বিষয়টিকে ডাকসু নেতাদের ‘বাড়াবাড়ি’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম।
সিনেটে ডাকসু নেতাদের বিক্ষোভ চলাকালে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সার্ভিস চালু করা বা না চালানোর ক্ষমতা আমার নেই। সেটা ভাইস-চ্যান্সেলর (উপাচার্য) চালু করবেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আর্থিক দিক থেকে কিছু মতামত দিই, যেটা আমার ব্যক্তিগত স্বার্থে না। কারো চেহারা দেখে বা কোনো দলের দিকে তাকিয়ে আমি মতামত দিই না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে মতামত দিই, দ্যাটস অল।
বাস সার্ভিস বন্ধের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার কোনো কিছু চালু বা বন্ধ করতে পারে না। আমাদের সবকিছু চালু করার ক্ষমতা উপাচার্যের হাতে। উনি দেবেন। তাহলে আমি কেমনে বন্ধ করলাম? এটাই তো ভুল, ওরা(ডাকসু নেতারা) না বুঝে বাড়াবাড়ি করে কথা বলছে।
বাজেট বরাদ্দে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ট্রেজারার বলেন, আমি এখানে কোনো বাধা দিইনি। আমি আমার নোটে লিখেছি এবং ভাইস-চ্যান্সেলরকে বলেছি, এখানে মাত্র দুই বছরের জন্য বরাদ্দ আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সার্ভিস আরম্ভ করলে সেটা আর বন্ধ করা যায় না। শুধু এই দুই বছরের বরাদ্দ দিয়ে একটা সার্ভিস চালু করলে এবং পরবর্তীতে যদি অর্থ বরাদ্দ না হয়, বিশ্ববিদ্যালয় তখন ঝামেলায় পড়বে। ভাইস-চ্যান্সেলর চাইলে উনার ক্ষমতাবলে এই অনুমতি দিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আমার কাজ হচ্ছে আর্থিক সমস্যাটা ভাইস-চ্যান্সেলরকে জানানো যে, দুই বছর পরে এই ফান্ড না পেলে বিশ্ববিদ্যালয় তখন এই বাস সার্ভিস দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এটাই আমি ভাইস-চ্যান্সেলরকে বলেছি এবং এটা বলা আমার দায়িত্ব। এখন এই বলাতে যদি কেউ রেগে যায়, মন খারাপ করে বা ক্ষেপে যায়— আমার কিছু করার নাই। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে এই কথাটা বলতে হবে।
ড. এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের ট্রান্সপোর্টেশনের (যানবাহন খাতে) পেছনে সরকার যে বাজেট দেওয়া হয়, তার চেয়ে আমাদের দ্বিগুণ খরচ হয়। আগামী বছরের যে বাজেট ইউজিসি দিচ্ছে, তা গত বছরের চেয়েও কম।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ফাইনাল ডিসিশন নেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আমি শুধু ভাইস-চ্যান্সেলরকে জানিয়েছি যে, ভবিষ্যতে ঝামেলা হতে পারে। এটা কি আমার দায়িত্ব না? আর আমি যদি এই কাজটা না করি, আজ থেকে দুই বছর পর আমি এই পজিশনে না থাকলে তখন যে ভাইস-চ্যান্সেলর আসবে সে বলবে— ট্রেজারার তো দায়িত্ব পালন করে নাই, সে তো বলেনি। তাই আমি ডকুমেন্ট করে রাখলাম যে আমি বলেছি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আমাকে ব্লেম (দোষারোপ) করতে না পারে।