ভোলার লালমোহনে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে নারিকেল পারাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসুদ হাওলাদার (৪৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে।
বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মাসুদ হাওলাদার ওই ওয়ার্ডের মৃত আজগর আলী হাওলাদারের ছেলে।
এর আগে একই দিন দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে নারিকেল পারাকে কেন্দ্র করে মাসুদ হাওলাদার ও তার ভাইয়ের মেয়ে রেশমা এবং তার স্বামীর সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে মাসুদসহ তার পরিবারের ৭ জন এবং রেশমার পরিবারের ৩ জন আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে নারিকেল পারতে যান রেশমা ও তার স্বামী ফিরোজ মিয়া। পরে দেখতে পেয়ে মাসুদের মেয়ে তাতে বাধা দেন। এতে রেশমা ও তার স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদের মেয়েকে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে মাসুদ ঘটনাস্থলে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মাসুদের বড় ভাই আবুল কালাম জানান, জমি নিয়ে একাধিকবার বিচার শালিস করা হলেও রেশমা তা তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক জমি থেকে নারিকেল পারার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে রেশমা ও তার স্বামী এবং ছেলেরা মাসুদের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। এতে আমার ভাই মাসুদ আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা নেওয়ার পথে ভেদুরিয়া ঘাটে মারা যায়।
এদিকে মাসুদের নিহতরে খবরে তার পরিবার বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লালমোহন থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত রেশমা ও তার স্বামী ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাদের ব্যবহ্নত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।