আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিতে সাংবাদিকতা করার পর আকবর হোসেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১১ এপ্রিল সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ধারাবাহিক আয়োজন আলাপন অনুষ্ঠানে তার সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, প্রেস মিনিস্টারের দায়িত্ব, পদত্যাগ এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেছেন। সঞ্চালনা করেছেন রাহাত রূপান্তর।
এশিয়া পোস্ট: বিশ্বের অন্যতম সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। দেশের খবর বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন। আপনার সাংবাদিকতা জীবনের শুরুর গল্পটা দিয়ে আমরা আলোচনা শুরু করতে চাই।
আকবর হোসেন: আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন থেকেই মূলত আমার সাংবাদিকতা শুরু। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকায় একটি ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে। ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার পর আমি সেখানে ট্রেনি রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিই এবং মোটামুটি দুই বছর তিন মাস কাজ করি। ২০০৫ সালে বিবিসি যখন ঢাকায় লোক নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়, তখন আমি আবেদন করি এবং নির্বাচিত হই। ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর আমি বিবিসিতে যোগ দিয়েছিলাম। এরপর দীর্ঘ সময় সেখানে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: বিবিসিতে কাজ করার সুবাদে ওখানকার কাজের পরিবেশ খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেখানকার সাংবাদিকরা কি আসলেও রাজনীতি ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থাকেন, নাকি ব্যক্তিভেদে তাদেরও পক্ষপাত থাকে?
আকবর হোসেন: বিবিসি একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিজম বা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন করাকে কখনোই উৎসাহিত করে না। সেখানে কাজ করা অবস্থায় আপনি কোনো দলের সমর্থক হতে পারবেন না কিংবা তাদের সরাসরি সমালোচকও হতে পারবেন না। এই নিরপেক্ষতাটুকু বিবিসি খুব কঠোরভাবে বজায় রাখে। বিবিসির একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়া পলিসি আছে। সেখানে কাজ করলে আপনি চাইলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় যা খুশি লিখতে পারবেন না। আপনি এমন কিছু লিখতে পারবেন না যাতে মনে হয় যে আপনি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক বা কোনো ঘটনায় একটি পক্ষ নিয়েছেন। মানুষ হিসেবে আমাদের অবচেতনে অনেক সময় রাজনৈতিক মতামত চলে আসে, কিন্তু কেউ যদি এই নিয়মগুলো লঙ্ঘন করে, তবে তাকে সতর্ক করা হয়। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। কারণ একজন রিপোর্টার হিসেবে লোকে যদি মনে করে আপনি পক্ষপাতদুষ্ট, তবে তারা আপনার বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ের ওপর আস্থা হারাবে। এতে প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
এশিয়া পোস্ট: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে আপনার কী মনে হয়—একই সঙ্গে রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং সাংবাদিকতা করা কি সত্যিই সম্ভব?
আকবর হোসেন: এটা আসলে নির্ভর করে ব্যক্তির ওপর। আপনার প্রফেশনাল ইনটেগ্রিটি বা পেশাদার সততা যদি অনেক শক্তিশালী হয়, তবে আপনি পারবেন। আমি মনে করি, আমরা কেউই রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে নই। কিন্তু প্রশ্ন হলো আপনি ফেয়ার কি না, আপনি অবজেক্টিভ কি না। আপনার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতা করার সময় আপনি ভালোকে ভালো এবং মন্দকে মন্দ বলতে পারছেন কি না, সেটিই বড় বিষয়। আপনি কি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাউকে ভিকটিম করছেন? যদি আপনি তা না করেন এবং কভারেজের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ থাকেন, তবে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকলে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ না করাই শ্রেয়। আপনি যদি স্বতন্ত্র সাংবাদিক হন, তবে ভিন্ন কথা।
এশিয়া পোস্ট: বিবিসিতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আপনার করা এমন কোনো বিশেষ সংবাদের কথা মনে পড়ে যা আপনাকে আজও গর্বিত করে?
আকবর হোসেন: নির্দিষ্ট করে একটি ঘটনার কথা বলা কঠিন, কারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি সাংবাদিকতা করেছি। যেমন বাংলাদেশে যখন ২০০৭ সালে ‘ওয়ান ইলেভেন’ বা জরুরি অবস্থা জারি হলো, সেই সময়টা ছিল খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। এরপর সিডর ঘূর্ণিঝড়ের কাভারেজ ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং চ্যালেঞ্জিং। এ ছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনসহ পরবর্তী বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা আমি কাভার করেছি। সাংবাদিক হিসেবে প্রতিটি ঘটনাই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এশিয়া পোস্ট: সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হয়েছিলেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে সেই কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
আকবর হোসেন: সত্যি বলতে, আমার সেই অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো ছিল না। আমি ওখানে গিয়ে দেখলাম যে, এই পদের জন্য আসলে সেরকম কোনো কাজ সেখানে নেই। একপর্যায়ে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, এই ধরনের পদ বা পজিশন আসলে বন্ধ করে দিলেও কোনো সমস্যা নেই। আমি মনে করি, কাজের মাধ্যমেই আমরা অভিজ্ঞতা অর্জন করি এবং সার্থকতা খুঁজে পাই। কাজ করলে ভুল হবে বা শুদ্ধ হবে, কিন্তু কাজই যদি না থাকে তবে শুধু চাকরি করা আর বেতন নেওয়াটা সুখকর কিছু নয়। সরকারি সিস্টেমটা হয়তো এ রকমই, কিন্তু এটি এমন হওয়া উচিত ছিল না। তবে এই এক বছরে আমি দেখার সুযোগ পেয়েছি যে সরকারি ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে।
এশিয়া পোস্ট: এই প্রেস মিনিস্টার পদে সাধারণত সাংবাদিকদেরই কেন নিয়োগ দেওয়া হয়? এর পেছনে কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?
আকবর হোসেন: যে কোনো কিছু যখন শুরু হয়, তার পেছনে একটি ভালো উদ্দেশ্য থাকে। সরকার সম্ভবত মনে করেছিল যে বাইরে থেকে জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা সিস্টেমে আনা দরকার। সাংবাদিকরা যেহেতু গণমাধ্যম সামলাতে অভ্যস্ত, তাই তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে এটি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা রাজনীতিতে জড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে এগুলো এক ধরনের পুরস্কার দেওয়ার বিষয়ে পরিণত হয়। আমার মতে, যারা মাঠপর্যায়ে ভালো সাংবাদিকতা করতে চান, তাদের এ ধরনের পদে না যাওয়াই ভালো। আমি নিজে না গেলে হয়তো এই বাস্তবতা বুঝতাম না।
এশিয়া পোস্ট: সরকারের পদ পাওয়ার পর আপনি সাংবাদিকতা পেশা ছেড়েছিলেন। এটি কি আপনার দীর্ঘ পেশাজীবনকে কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে?
আকবর হোসেন: অবশ্যই করেছে এবং আমি তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করি। আমি যদি আমার পেশাদার জীবনে কয়েকটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি, তবে এটি ছিল অন্যতম।
এশিয়া পোস্ট: সম্প্রতি আপনি পদত্যাগ করেছেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার কারণে কি কোনো সংশয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
আকবর হোসেন: না, সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। এমনকি আমার সঙ্গে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তারা অনেকেই এখনও কাজ করছেন। আমি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণে পদত্যাগ করেছি। আমি নিজে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি এবং তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।
এশিয়া পোস্ট: সমসাময়িক রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ বা অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে আপনি কথা বলেছেন। এটি আপনার কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো?
আকবর হোসেন: আমি দেখলাম যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে, তাই আমি আমার একটি বিশ্লেষণ দিয়েছি। অতীতে আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের পর থেকে যে কোনো সমালোচনাকেই ‘জামায়াত-শিবির’ বলে ট্যাগ দিত। একপর্যায়ে তারা নিজেদের দলের লোককেও সন্দেহ করতে শুরু করল। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিককে ছাত্রলীগের তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল এবং তাকেও জামায়াত তকমা দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়টি আওয়ামী লীগকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছিল। এখন বিএনপি বা অন্য কেউ যদি একই ন্যারেটিভ দাঁড় করায় যে, যারাই সমালোচনা করছে তারাই ‘গুপ্ত’ বা অন্য দলের লোক, তবে এটি তাদের দলের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়েও এখন অনেকে সমালোচনা করতে ভয় পাচ্ছে যে, তাকে আবার কোনো ট্যাগ দেওয়া হয় কি না। ক্ষমতায় আসার শুরুতেই এ ধরনের বিভেদ তৈরি করা দলের জন্য ভালো নয়।
এশিয়া পোস্ট: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে, বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
আকবর হোসেন: সমালোচনা হবে সীমাহীন। আপনি তথ্যযুক্তি দিয়ে আমার যত ইচ্ছা সমালোচনা করুন। কিন্তু আমাকে গালি দেওয়ার অধিকার আপনার নেই। সমালোচনা এবং অশ্লীলতাকে এক করে দেখা ঠিক নয়। আপনি যদি কাউকে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করেন, তবে তার আইনি প্রতিকার চাওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে। শুধু সমালোচনার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া আমি সমর্থন করি না।
এশিয়া পোস্ট: রাজশাহীতে একজন শিক্ষিকা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় একজন বিএনপি নেতার নাম জড়িয়েছে। ক্ষমতাসীনদের বেলায় এমনটা কেন দেখা যায়?
আকবর হোসেন: রাজশাহীর ঘটনায় আমি বলেছি যে, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার এবং দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত। আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন যে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, স্থানীয় পর্যায়ের কিছু টাউটপ্রকৃতির মানুষ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তারা মনে করে সব অধিকার তাদের। এমনকি আপনি যদি নিজে ক্ষমতা চর্চা নাও করেন, আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার কারণে লোকে আপনাকে অনেক ক্ষমতাবান মনে করবে এবং আপনাকে নানা বিষয়ে জড়ানোর চেষ্টা করবে। এই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন থেকেই মূলত এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।
এশিয়া পোস্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তী সরকারের কার্যক্রমকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আকবর হোসেন: নির্বাচনের সময় আমি দেশে ছিলাম না, তবে আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যা বলছে, তাতে এই নির্বাচন নিয়ে জনমনে বড় কোনো প্রশ্ন নেই। এটি গ্রহণযোগ্য ছিল। আর সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করার জন্য দুই মাস খুব কম সময়। যে কোনো সরকারকে মূল্যায়ন করতে হলে অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়া উচিত।
এশিয়া পোস্ট: ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোট নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার পরিণতি কী হতে পারে?
আকবর হোসেন: গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ সমর্থন দিয়েছে। আমি মনে করি, জনগণের রায়ের ওপর আর কোনো কথা থাকতে পারে না। বিএনপি যদি জনগণের এই রায়কে অবজ্ঞা করে, তবে তা হবে একটি রাজনৈতিক আত্মহত্যা। জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট থাকতে পারে, কিন্তু গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা তাদের জন্য ঠিক হবে না। বিএনপি একটি পরিপক্ব রাজনৈতিক দল এবং আমার ধারণা তারা এমন ভুল পথে হাঁটবে না।
এশিয়া পোস্ট: আওয়ামী লীগের আগামী দিনের রাজনীতি সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
আকবর হোসেন: আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা যতদিন ভারত থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, ততদিন বাংলাদেশে তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটি প্রবল ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ যদি ভারত থেকে না হয়ে অন্য কোনো দেশ থেকে কামব্যাক করার চেষ্টা করত, তবে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু ভারত থেকে কিছু করার চেষ্টা করলে মানুষ মনে করবে এটা ভারত করাচ্ছে।
এশিয়া পোস্ট: জুলাই অভ্যুত্থানের সেই আবেগ কি এখনও মানুষের মধ্যে আছে?
আকবর হোসেন: অভ্যুত্থানের আবেগ প্রতিদিন রাস্তায় দেখা যাবে না। এ ধরনের ঘটনা যুগে একবার ঘটে। এর মানে এই নয় যে মানুষ ভুলে গেছে। মানুষ যখন দেখবে তাদের অধিকার ঠিকমতো রক্ষিত হচ্ছে না, তখন তারা আবারও প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তবে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তন সবার মধ্যে আসেনি। একটা গোষ্ঠী সবসময় ব্যবসার ধান্ধায় থাকে, আদর্শ তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তবে দেশের একটি বড় অংশ অবশ্যই পরিবর্তন চায়।
এশিয়া পোস্ট: অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কতটুকু ছিল এবং কতটুকু পূরণ হয়েছে?
আকবর হোসেন: আমি এই সরকারের কোনো নীতিনির্ধারক ছিলাম না, আমি ছিলাম একজন মধ্যম সারির কর্মকর্তা। তবে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, এই সরকার অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। পুলিশ বাহিনীকে সচল করার চেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং একটি নির্বাচন আয়োজন করা তাদের কাজ ছিল। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সফলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করাটাই তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমি খুব বেশি প্রত্যাশা রাখি না, কারণ পরিবর্তন শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করে না, জনগণের সচেতনতাও প্রয়োজন। শুধু চাই সরকার যেন সাধারণ মানুষের ক্ষতির কারণ না হয়।
এশিয়া পোস্ট: সংবাদমাধ্যমে ভুল তথ্য বা ডিস-ইনফরমেশন রোধে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
আকবর হোসেন: যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল তথ্য ছড়ায়, তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। তবে তাদের জেলে না পাঠিয়ে জরিমানা করা যেতে পারে। জরিমানার ব্যবস্থা থাকলে মানুষ সতর্ক হবে এবং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবেও দেখা হবে না। বর্তমান সময়ে মূলধারার গণমাধ্যম এই ভুল তথ্যের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাংবাদিকদের মনে রাখতে হবে, ‘প্রথম হওয়ার’ প্রতিযোগিতার চেয়ে ‘শুদ্ধ হওয়া’ বেশি জরুরি। তথ্য যেন নির্ভুল হয়, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ।
এশিয়া পোস্ট: আগামী পাঁচ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
আকবর হোসেন: আমি সাংবাদিকতাই করব, এটাই আমার মূল পেশা। আমি নিজের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার চেষ্টা করছি যেখানে আমি মূলধারার সাংবাদিকতা বজায় রাখব। আমি আমার সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে মানুষের আস্থায় ফিরতে চাই।
এশিয়া পোস্ট: চাপের মুখে সাংবাদিকতা করার বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
আকবর হোসেন: এটি আপনার পেশাদার সততার ওপর নির্ভর করে। আপনার যদি অন্য কোনো স্বার্থের জায়গা থাকে, তবে আপনি চাপ মোকাবিলা করতে পারবেন না। নিজেকে শক্তিশালী এবং সৎ রাখতে পারলে যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। আমি আশা করি, বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন থেকে একটি মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারবে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা কেউ উপহার হিসেবে দিয়ে যায় না, এটি কাজের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।