Image description

ভোলার তজুমদ্দিনে বিএনপি কর্মীদের ওপর নির্যাতন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপির তদবিরে চাকরি নেওয়া, বিভিন্নভাবে আধিপত্য বিস্তার এবং বিবাহিত দুই সন্তানের জনক এবার পেলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি পদ।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের পদ পাওয়া তজুমদ্দিনের ইঞ্জিনিয়ার রেদোয়ান আসিফের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পরও ছাত্রদলের পদে আসীন হওয়া নিয়ে উঠেছে গুঞ্জন।

 

এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক ছাত্রদল ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। ছাত্রদলের সদ্য পদ পাওয়া রেদোয়ান আসিফের বাড়ি ভোলার তজুমদ্দিনের দক্ষিণ শম্ভুপুরে। তিনি তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মেম্বারের ছেলে ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম সাকিবের বড় ভাই বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় ফেসবুকে সাবেক ছাত্রদল নেতা মতিন শিকদার, আরমানুল ইসলাম যুবায়ের ও বাচ্ছু মাতব্বর নামে কয়েকজন উদ্বেগ জানিয়ে পোস্ট লিখেন। সেখানে শম্ভুপুর ইউনিয়ন বিএনপি সম্পাদক ও তজুমদ্দিন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সহ কয়েকজন এ ঘটনার নিন্দা জানান। এত কিছুর পরও আসিফ কীভাবে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের পদ পায়- এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা জানান, আসিফ বিবাহিত, তার দুই সন্তানও রয়েছে। তাছাড়া সে আওয়ামী লীগের সময়ে সাবেক এমপি নুরন্নবী চৌধুরীর আস্থাভাজন হয়ে তাকে দিয়ে তদবির করিয়ে বিজেএমই-তে চাকরিও নেন। তিনি ২০১৫ সাল পর্যন্ত বরিশালের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন এবং সাবেক মেয়র হিরণের হয়ে কাজ করতেন।

এদিকে ওই এলাকার বাচ্ছু মাতব্বরসহ একাধিক ব্যক্তি রেদোয়ান আসিফ ও তার পরিবার দ্বারা ভয়াবহ নির্যাতনের কথা তুলে ধরে এর বিচার দাবি করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকন আমার দেশ-কে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। দীর্ঘদিন পর্যন্ত আসিফ ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে, কত দিন যাবৎ আসিফকে আপনি চেনেন বা তিনি কত দিন ধরে ছাত্রদল করতেন- এমন প্রশ্নে লিপকন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি পদ পাওয়ার পর তাকে চিনি। আগে কী করতেন- সেটা জানি না। পরবর্তীকালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন এই মহানগর ছাত্রদল নেতা।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সদ্য পদ পাওয়া বিতর্কিত ছাত্রদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার রেদোয়ান আসিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার দুঃখ লাগে তজুমুদ্দিন উপজেলা বিএনপির কিছু লোকজন আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। আমি বিবাহিত দুই সন্তানের জনক হলেও আমি এখনো ছাত্র। আমি কোনো দিনই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। আমার অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের এমপি এসেছেন, আমি আওয়ামী পরিবারের বিয়ে করেছি- এটা যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে আমার কিছু করার নেই।

এ সব বিষয়ে তজুমুদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ঝন্টু বলেন, রেদওয়ান আসিফ কোনো দিনই তজুমদ্দিনে ছাত্রদল করেনি। তার বাবা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আগেও জড়িত ছিলেন, বর্তমানেও তিনি আওয়ামী লীগ করেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা। আমরা ফেসবুকে দেখতে পেলাম তিনি ছাত্রদলের পদ পেয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একই মত প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হাওলাদার।