যুদ্ধ শুরুর দীর্ঘ আড়াই মাস পর সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে পৌঁছেছে বিশাল জাহাজ এমটি নিনেমিয়া। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা ক্রুড অয়েলের প্রথম চালান, যা বন্ধের উপক্রমে থাকা দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডকে (ইআরএল) নতুন জীবন দিচ্ছে। বুধবার (৬ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর করেছে জাহাজটি।
জ্বালানির জাহাজ দেশে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম মাহমুদুল মালেক। তিনি জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ৭ মে থেকে ইআরএল আবারও পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে। কাঁচামালের অভাবে গত দেড় মাস ধরে পাইপলাইনের তলানিতে জমে থাকা ‘ডেডস্টক’ তেল দিয়ে কোনোমতে শোধনাগারটি চালু রাখা হয়েছিল এবং উৎপাদন দুই-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে আসা এই তেল খালাসের জন্য ইতোমধ্যেই দুটি লাইটার ট্যাঙ্কার প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা জাহাজ থেকে তেল নিয়ে বন্দরের ডলফিন জেটির পাইপলাইনের মাধ্যমে ইআরএল-এ পৌঁছে দেবে। এটি পরিশোধনের মাধ্যমেই ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদিত হবে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন তেল নিয়ে নর্ডিক পোলাক্স নামের একটি জাহাজ দুই মাস ধরে আটকা পড়ে আছে এবং মালিকপক্ষের অনীহায় ওমেরা গ্যালাক্সি যাত্রা বাতিল করায় এই তীব্র সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল।
দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে বিকল্প পথে আরও এক লাখ টন তেল নিয়ে এমটি ফসিল নামের আরেকটি ট্যাঙ্কার চলতি মাসের শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফুজাইরা থেকে সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে আসবে বলে এই জাহাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হবে না। দুই জাহাজে মোট দুই লাখ টন তেল এলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।