প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেওয়া হলে তা বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় বনানীর ঢাকা শেরাটন হোটেলে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অতিরিক্ত মনিটরিং করি, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করি; তাহলে তারা কাজ করতে পারবে না। আবার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না; যাতে এগুলো ‘হলি আর্টিজান’-এর মতো জঙ্গি কারখানায় পরিণত হয়। অবশ্যই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারকে আপনাদের কথা শুনতে হবে, সমস্যাগুলো শুনতে হবে এবং সেগুলোর সমাধান করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমরা দেখেছি, ৮০-এর দশকে যখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশে এসে পড়াশোনা করত। আর আজ আমরা সেখানে গিয়ে পড়াশোনা করছি। তারা ব্রেন ড্রেইন করেনি, বরং রিভার্স ব্রেন ড্রেইন করেছে।
আপনাদের মতো ডিস্টিংগুইশড একাডেমিশিয়ানরা দেশে ফিরে এসে কাজ করতে চাচ্ছেন; আমি অবশ্যই আপনাদের সম্মান জানাই। কারণ আমরা যারা বাইরে যাই, তারা যেন দেশে ফিরে আসতে পারি; সেই জায়গা তৈরি করা জরুরি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে যে ধারণা থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন করা হয়েছিল; সেই ধারণার ফল আমরা আজ পাচ্ছি। এটাকে পরিবর্তন বা সংশোধনের চেষ্টা হয়েছে ২০১০ সালে, আবার ২০২৫ সালেও আমরা দেখেছি; প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কীভাবে সরকারি প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসা যায়—সেই চেষ্টা হয়েছে।
আমি সরাসরি বলছি—ক্রস-বর্ডার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চারটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি জানি না শিক্ষা মন্ত্রণালয় কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমাদের বসে কথা বলতে হবে, জানতে হবে, বুঝতে হবে।
ড. মিলন বলেন, আমি ড. ওসমান ফারুকের সাথে কাজ করেছি। তখন কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকতো না। এখনো আমি আমার সচিবকে বলেছি—কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি রাখা যাবে না। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী ফাইল আটকে থাকার কোনো কারণ নেই। বর্তমান ইউজিসি চেয়ারম্যান নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। মাত্র ২৯ দিন হয়েছে। তাই এখনই তাকে প্রশ্ন করা ঠিক হবে না। তবে আমরা দ্রুত একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করবো। আমরা ১৮০ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নতুনভাবে সাজাতে চাই। কারণ দেরি করলে আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাব না।