আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম নামে রাষ্ট্রপক্ষের একজন সাক্ষী।
আওয়ামী শাসনামলে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দেন তিনি। পরে মামলার কার্যক্রম মূলতবি করে বুধবার (৬ মে) সাক্ষীকে জেরা করার দিন নির্ধারণ করা হয়।
জবানবন্দিতে মুফতি শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে তিনি গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত র্যাব সদস্য এবং তাদের ‘হাইকমান্ডের’ বিচার চাই।
সোমবার (৪ মে) জবানবন্দিতে তিনি বলেছিলেন, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর জাপান গার্ডেন সিটি এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে আমাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
আজকে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গুম থাকা অবস্থায় একদিন আমাকে আগের নিজস্ব কাপড়চোপড় ফিরিয়ে দিয়ে প্রস্তুত হতে বলা হয়। পরে আমাকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িটি ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চলে। গাড়িটি এক জায়গায় থামিয়ে আমাকে নামানো হয়। খাবার খাওয়ার জন্য চোখের বাঁধন একটু ওপরে তোলা হলে দেয়ালে ‘র্যাব-১৩, রংপুর’ লেখা দেখতে পাই। সেখানে আমাকে কিছু সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার গাড়িতে তোলা হয়। এক–দুই ঘণ্টা চলার পর গাড়ি থামলে আমার চোখ খুলে দেওয়া হয়। সেখানে আমি ভবনের গায়ে ‘সিপিসি র্যাব-১৩, নীলফামারী’ লেখা দেখতে পাই।
নীলফামারীর র্যাব-১৩ তে একদিন ছিলেন উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই সময় র্যাবের একজন সদস্য আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনি র্যাব-১ ছিলেন। ওখান থেকে কেউ ফিরে আসে না। আল্লাহ আপনাকে বাঁচিয়েছে যে আপনি এ পর্যন্ত চলে আসছেন। তারপর একটি ‘মিথ্যা’ মামলায় আমাকে আসামি করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর ১৬ মাস পর জামিন পাই।
জবানবন্দি শেষ হলে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণী। জেরায় সাক্ষী শফিকুল ইসলাম বলেন, মারকাজুস সুনান মাদরাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগের জন্য কোনো বিজ্ঞাপন আহ্বান করা হয়নি। আমাকে ফোন করে আসতে বলা হয় এবং এ প্রতিষ্ঠানের মোতোয়াল্লি মো. জহির উদ্দিন আমাকে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি হয়। তাদের মধ্যে ১০ আসামি গ্রেফতার হয়ে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন। তারা হলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম এবং কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
মামলার অপর সাত আসামি পলাতক। তারা হলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি হন), এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।