রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১১ আবাসিক হলে ঘোষিত হয়েছে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ সংগঠন ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি। সোমবার (৪ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল গালিব তার ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন এই তালিকা।
শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল গালিব স্বাক্ষরিত তালিকায় রয়েছে প্রতিটি হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম।
ছাত্রলীগের এই পদক্ষেপকে ‘অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছে ছাত্রসংগঠনগুলো। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না ক্যাম্পাসে।
‘এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ এবং তাদের নেতারা পলাতক। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ অবস্থায় কমিটি ঘোষণা হাস্যকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি না’, জানালেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।
শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের মন্তব্য, ‘নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী একটি সংগঠনের হল কমিটি গঠন সম্পূর্ণ বেআইনি। জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে জড়িতদের আনা হয়েছে এই কমিটিতে। এটি ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা। পুলিশ ও প্রশাসনের উচিত এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেছেন, ‘গণহত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগের রাজনীতি করার নেই কোনো প্রাসঙ্গিকতা। নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় এই কমিটি ঘোষণাও একধরনের দুঃসাহস।’
এ বিষয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। তার মতে, ‘অনলাইনে বা ফেসবুকে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে তাদের কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। আইনিভাবে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা কিছুই করতে পারবে না।’
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকে ক্যাম্পাসে সংগঠনটির কোনো প্রকাশ্য কার্যক্রম ছিল না।