সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখন কেবলই এক ধ্বংসস্তূপ। উদ্বোধনের ১৯ বছর পার হলেও কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় ভেস্তে গেছে পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে কেন্দ্রটির ১০ একর ভূমি দখল করে চলছে মাছ চাষ, আর মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ডেনিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ডিএএনআইডিএ) অর্থায়নে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরি প্রজেক্ট এলাকায় এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি স্থাপন করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। লক্ষ্য ছিল ২২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার চারটি টারবাইনের মাধ্যমে মোট ০.৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। ২০০৬ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হলেও বাতাসের গতিবেগ কম থাকাসহ নানা অজুহাতে কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে একবার সংস্কার করে চালু করা হলেও ২০২১ সালের শুরু থেকে এটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে আছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশের সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে মূল্যবান রাষ্ট্রীয় সম্পদ।
অভিযোগ উঠেছে, বিগত সরকারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মদদে কেন্দ্রের ১০ একর জমি দখল করে পুকুর খনন ও মাছের খামার করা হয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সেই দখলদারির হাতবদল হলেও জমির মুক্তি ঘটেনি। ভুয়া কাগজপত্র ও স্ট্যাম্প দেখিয়ে ভূমিদস্যু চক্র এখনো সেখানে সক্রিয়। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় কেন্দ্রের জেনারেটর, কন্ট্রোল প্যানেল এবং সাবস্টেশনের মূল্যবান যন্ত্রাংশে মরিচা ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহারাদার না থাকায় নিয়মিতভাবে চুরি হচ্ছে বৈদ্যুতিক তার ও মোটরসহ অন্যান্য সরঞ্জাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি মূলত ঢাকা থেকে সরাসরি তত্ত্বাবধান করা হয়। মাঝে একবার মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা কাজে আসেনি। এ বিষয়ে হেড অফিস থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি নির্দেশনা আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেন, এটি বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের ঐক্যান্তিক প্রচেষ্টায় স্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু বিগত সময়ে নানা অব্যবস্থাপনায় আর আলোর মুখ দেখেনি। এখন আমরা বর্তমান সরকারের নিকট এটি পুনরায় চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কেন বন্ধ থাকবে, এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৌশলীরা। তাদের মতে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনবল নিয়োগ দিলে এখনো প্রকল্পটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। লোক দেখানো প্রকল্প নয়, বরং সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি বিস্তারিত খোঁজ খবর নিবো। এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।