অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পারিক বাণিজ্য চুক্তির (রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা আরটিএ) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে হাইকোর্টে।
আজ সোমবার জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম পলক।
আবেদনকারীর আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস জানালেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি স্পষ্টতই অযৌক্তিক, কাঠামোগতভাবে অসম এবং এটি কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্যই নয়, সাধারণ জনগণের জন্যও ক্ষতিকর। ফলে বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে বিচারিক হস্তক্ষেপ চেয়ে করা হয়েছে এই আবেদন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির শর্ত নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কর্তৃপক্ষগুলো দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় হয়েছে ব্যর্থ। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে (আরটিএ) বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জনানো হয়েছে আবেদনে। এ ছাড়া চুক্তির ৬.৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চুক্তি বিষয়ে লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারি এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় করা থেকে বিরত রাখতে বিবাদীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতেও আর্জি জানানো হয়েছে এতে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এই মামলায় করা হয়েছে বিবাদী।
রিট আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর অসম দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, অসুবিধাজনক শুল্ক ব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য স্বাধীনতা কমে যেতে পারে এবং দেশীয় শিল্প, কৃষি ও পরিবেশগত সুরক্ষার হতে পারে ক্ষতি।
সংবিধান অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে সাংবিধানিক বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রিট আবেদনে, জানান আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস।
বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে চলতি সপ্তাহেই আবেদনের উপর শুনানি হতে পারে বলে জানান এই আইনজীবী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করে এই বাণিজ্য চুক্তি। চুক্তিতে ১৩১টি শর্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশকে মানতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছয়টি শর্ত মানতে হবে বলে খবর এসেছে। চুক্তি নিয়ে দেশে চলছে নানা ধরনের সমালোচনা।
জাতীয় সংসদে এই চুক্তি বাতিল চেয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেকেও চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছে। অর্থনীতিবিদেরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে বলেছেন গ্রহণযোগ্য সমাধানের কথা। এখনও কার্যকর হয়নি চুক্তিটি। তবে এরই মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানা পণ্য কেনার চুক্তি করছে। এ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।