প্যাকেটবন্দি হয়ে পড়ে আছে বহুল প্রতীক্ষিত প্রশাসনিক সংস্কার প্রস্তাব। এতে ঔপনিবেশিক ও সামন্তবাদী মানসিকতা পরিহার করে সরকারের স্বচ্ছ, জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার উদ্যোগ অনেকটা ভেস্তে গেছে। আলোচনার বাইরে চলে গেছে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী কমিশনের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনটিও। কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব ও দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য জমা দেওয়ার বিষয়টিও এখন অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র মিলেছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আমলাতন্ত্র আগের ধাঁচেই রয়ে গেছে। রেজিম পাল্টায় কিন্তু চরিত্র বদলায় না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ‘লালফিতা’র দৌরাত্ম্য এখন ‘সাদাফিতা’য় রূপ নিলেও ফাইল আটকে ঘুস আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, দুর্নীতি ও অনিয়ম কোনো অংশেই কমেনি। ক্ষেত্রবিশেষ বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।
‘আওয়ামী প্রশাসন’ হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে সরকারের লুটপাটের সঙ্গী প্রশাসনের বড় অংশটি বর্তমানে বিএনপি সরকারের কাঁধে ভর করে আছে বলেও অভিযোগ ওই সময়ে বঞ্চিত হয়ে অবসরে যাওয়া কয়েকজন চৌকস কর্মকর্তার। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের শুরুতে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলা বিশৃঙ্খলার মধ্যে সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিতসহ কয়েকটি বৃহৎ ইস্যুতে সরকার প্রশাসনের পুরোপুরি সহযোগিতা পায়নি বলেও অভিযোগ বঞ্চনার শিকার এসব কর্মকর্তার। তাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারও আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পদে বহাল রেখে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, সংস্কারের মাধ্যমে প্রশাসনকে জনবান্ধব করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অপরদিকে সেবাগ্রহীতাদের মতে, ঘুস, দুর্নীতি ও অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো হেরফের হয়নি। ফাইল আটকে টাকা আদায় সেই আগের মতোই আছে। ঘুস ছাড়া কোনো ফাইল নড়াচড়া তো দূরের কথা, কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে কথা বলাও মুশকিল। দেশের আট বিভাগের শতাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে গত ২০ দিন ধরে কথা বলে আমার দেশ। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ঘুস ও অনিয়মের চিত্র। ভূমি অফিস, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিসসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি দপ্তরগুলোয় ঘুসের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছেÑএমন চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও।
মুয়ীদ কমিশনের সুপারিশ প্যাকেটবন্দি
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত প্রভাবশালী শীর্ষ আমলা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিশন গঠন করে। ওই কমিশন আমলাতন্ত্রের ঔপনিবেশিক ও সামন্তবাদী মানসিকতা ও কাঠামো ভেঙে দেশপ্রেমিক, জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দক্ষ প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করে। এতে জনপ্রশাসনে নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, শৃঙ্খলা বিধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব ও লেজুড়বৃত্তির বাইরে থেকে সবক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও দক্ষতা যাচাইয়ের কথা বলা হয় কমিশনের প্রতিবেদনে। এজন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়া, জুডিশিয়াল সার্ভিসের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কমিশন গঠন করারও সুপারিশ করা হয়। কমিশনের ওই সুপারিশ এখনো প্যাকেটবন্দি অবস্থায় আছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মুয়ীদ কমিশনের সুপারিশের বিষয়ে গবেষক ও জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত অসংখ্য বইয়ের লেখক মো. ফিরোজ মিয়া আমার দেশকে বলেন, দেশে বর্তমানে যে প্রশাসন রয়েছে, সেটা জনবান্ধব নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির সর্বনিম্ন স্তরে নামানো হয়। সেটা করা হয় মূলত দুর্নীতি, দুঃশাসন ও মানুষকে দমিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনকে আওয়ামী ধারা থেকে বের করতে ব্যর্থ হয়। এখনো ওই প্রশাসনিক কাঠামোই রয়ে গেছে। প্রশাসনকে দলীয় গণ্ডির ভেতর থেকে বের করে সত্যিকারের জনবান্ধব প্রশাসন হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশে কখনোই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
আমলাতন্ত্রের ঔপনিবেশিক মানসিকতা
জানা গেছে, ঔপনিবেশিক শাসনামলের মাঝামাঝি সময় থেকে এ অঞ্চলে প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী রূপ দিতে চারটি কমিশন গঠন করেছিল ব্রিটিশরা। ১৮৮৬ সালে হিচমিন কমিশন, ১৯১২ সালে ইসলিংটন কমিশন, ১৯২৪ সালে লি কমিশন এবং ১৯৩০ সালে গঠিত সাইমন কমিশনের মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়। ওই সময় আমলাতন্ত্রকে জনবান্ধব নয়; বরং জনগণকে ব্রিটিশ রাজের প্রজায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা ছিল বলে জানান জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। আমলাদের মধ্যে সামন্তবাদী মনোভাব আর জনসাধারণকে প্রজা ভাবার যে সংস্কৃতি বিরাজমান, সেটা ওই সময়ই তৈরি হয়। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত একই ধারা বজায় ছিল পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসেও। এমনটিই মনে করেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।
অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭১ সালেই প্রথমে প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য ‘সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেস্টোরেশন কমিটি’ গঠন করা হয়। পরে ১৯৭২ সালে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিঅর্গানাইজেশন কমিটি’ এবং ‘ন্যাশনাল পে স্কেল কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠা ও একটি নতুন বেতন কাঠামো গঠন করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ‘পে অ্যান্ড সার্ভিস কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনের পুনর্গঠন ও বেতন কাঠামো উন্নয়ন করা হয়। পরে প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্গঠন কমিটি (সিএআরআর), জাতীয় বেতন কমিশন করে নতুন বেতন কাঠামো প্রবর্তন করা হয়। একই ভাবে প্রশাসন সংস্কার কমিশন (এসিআর) এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন (পিএআরসি) গঠনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০০৫ সালে ‘ট্যাক্স ওমবাডসম্যান আইন’ করে তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ২০০৭ সালে ‘রেগুলেটরি রিফর্ম কমিশন’ গঠনের মধ্য দিয়ে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করার মতো সংস্কারমূলক কাযক্রম পরিচালনা করা হলেও প্রশাসনকে জনবান্ধব করে তোলা সম্ভব হয়নি।
দেশের কয়েকটি উপজেলা পর্যায়ে সরকারি দপ্তরগুলোয় অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, এসব দপ্তরের ছোট পদের কর্মচারীকেও ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে সেবা চাইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। একজন ভূমি মালিক জমির খাজনা দিতে গিয়ে তহসিলদারকে ‘স্যার’ না বলায় তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এর জের ধরে ওই ভূমি মালিক দুই বছর ধরে খাজনা দিতে পারেননি। সহকারী কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ না বলায় স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন অসংখ্যবার। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘স্যার’ না বলায় কারাদণ্ডও ভোগ করতে হয়েছে একাধিক সাংবাদিককে। এগুলোর সবই কর্মকর্তাদের সামন্তবাদী ঔপনিবেশিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।
আওয়ামী লুটপাটের সঙ্গী প্রশাসন
‘এক-এগারো’ সরকারের হাত ধরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আমলাতন্ত্রকে পুরোপুরি রাজনীতিকরণ করে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭৫ সালে বাকশাল সরকারের সময়ও প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাকশালে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার সরকারও জনপ্রশাসন নিয়ে একই ধারায় হাঁটে।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে শ্বেতপত্রে। সে হিসাবে গত ১৫ বছরে পাচার হয়েছে ২৪০ বিলিয়ন বা দুই লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার। এসব দুর্নীতি ও পাচারের সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের আমলারা প্রকাশ্যে জড়িত বলেও তাতে উঠে এসেছে।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন এইচটি ইমাম। তার হাতে প্রশাসনকে দলীয় কাঠামোর ভেতরে আনার বর্ণনা দেন বর্তমান চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিবের পদে থাকা এক কর্মকর্তা। আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘এইচটি ইমাম দায়িত্ব পেয়েই পুরো প্রশাসনকে আওয়ামী লীগের প্রশাসনে পরিণত করেন। ‘সার্ভিস রুল ও রুলস অব বিজনেস’-এর পরিবর্তে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও শেখ হাসিনার চাওয়াকেই নীতি হিসেবে প্রতিপালন করতে হয়। মেধাবী কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি, ওএসডি কিংবা প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
এইচটি ইমামের হাতে গড়া ফ্যাসিবাদী ও আওয়ামী প্রশাসনকে অন্তর্রর্তী সরকারও বহাল রাখে বলে অভিযোগ করেছিলেন সাবেক সচিব (বর্তমান জনপ্রশাসন উপদেষ্টা) ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে আট পৃষ্ঠার অভিযোগও দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। তার ওই অভিযোগের বিষয়ে সরকারের তিনজন উপদেষ্টা ও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। তাদের সবাই অভিযোগকে সঠিক ও বাস্তবভিত্তিক বলে মনে করেন।
শেষ সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও দেশে চলমান আওয়ামী প্রশাসনের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক আমলা ফাওজুল কবির খান বিদায় নেওয়ার আগে আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমলাতন্ত্র একটি জগদ্দল পাথরের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা জনগণের বুকে চেপে বসে আছে। কিছুই করা যায় না এখানে। কোনোরকম মানবিক দায়িত্ববোধই আমাদের এ আমলাতন্ত্রের মধ্যে নেই।’
আমলাতন্ত্রের চরিত্রের বদল হয়নি
দেশে জ্বালানি তেলের সংকটজনক সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতাকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার আমার দেশকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আশায় বসেছিলেন পাম্প মালিক, মজুতদার ও ডিপোগুলোর তত্ত্বাবধানে থাকা কর্মকর্তারা। তারা জনগণের দুর্ভোগটি দুর্নীতি ও মুনাফার জন্য পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। দুর্নীতিবাজ ও মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এক ধরনের আপসরফা হয়েছে জ্বালানি তেল নিয়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুর্নীতিবাজরা পালিয়ে গেলেও প্রশাসন থেকে চোরতন্ত্রের বিদায় হয়নি বলেও মনে করেন সুজন সম্পাদক।
সম্পদের হিসাবের ইস্যু আড়াল
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দেয়। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশন শাখায় চিঠি দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কতজনের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে, সে বিষয়ে তথ্য চায়। সরকারের এ দুটি উদ্যোগের পরই প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়। সচিবালয়সহ প্রশাসনজুড়ে বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাপক আন্দোলনে নেমে পড়েন। একপর্যায়ে আড়ালে চলে যায় কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব দেওয়া এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি।
সরকারের লক্ষ্য দক্ষ প্রশাসন
দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলে জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী আমার দেশকে বলেন, আমরা চাই প্রশাসন সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুক। প্রশাসন শক্তিশালী হলে জনগণ সুফল পাবে। আমরা নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং ইশতেহারে যা ঘোষণা করা হয়েছে, তার সফল বাস্তবায়ন চাই। এটি বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূলের কর্মকর্তাদের। এজন্য আমরা পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীও দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন চান।
সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আবদুল বারী বলেন, জনগণ আমাদের ইশতেহার গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা দেশবাসীর সেবার জন্য দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা এটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চাই। এজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো দরকার, সেটি করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নন, তারা দেশের জন্য কাজ করবেন বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।