Image description

কুমিল্লা শহরে একদল কিশোর ও তরুণ সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা সবাই কিশোর অপরাধী দলের (কিশোর গ্যাং) সদস্য। অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে কিশোর অপরাধীদের নতুন একটি দলের জানান দিয়েছে তারা।

শুক্রবার বিকেলে গোমতী নদীর তীরবর্তী নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই কিশোর অপরাধী দলের শতাধিক সদস্য মহড়া দেয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ওই মহড়ার কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, ওই কিশোর–তরুণেরা ‘ক্রাইম সেটাপ’ নামে নতুন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে নগরের ভাটারপুকুর, কাপ্তানবাজার, বৌবাজার হয়ে চানপুর সারোয়ার স্কুল রোড পর্যন্ত এলাকায় ১০০ থেকে ১৫০ জন কিশোর–তরুণের একটি সংঘবদ্ধ দল মহড়া শুরু করে। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা রামদা, চাপাতি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে দাপট দেখায়। এ সময় তারা চিৎকার করে এলাকায় নিজেদের আধিপত্যের জানান দেয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিশোরদের হাতে ধারালো অস্ত্র দেখে পথচারীরা দিগ্‌বিদিক ছুটতে শুরু করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাপ্তানবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, ‘হঠাৎ দেখি একঝাঁক পোলাপান রামদা নিয়া চিৎকার করতে করতে আসছে। পরিস্থিতি দেইখ্যা ভয়ে আমরা দোকানের শাটার নামাইয়া দিছি। প্রকাশ্যে এভাবে অস্ত্র নিয়া ঘোরাফেরা করবে, এটা ভাবা যায় না। এই এলাকায় আগে এই রকম অবস্থা দেখি নাই।’

এদিকে এমন ঘটনায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় অভিভাবক সমাজও। চানপুর এলাকার এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুনেছি এই গ্যাংয়ের অনেকেই স্কুল-কলেজের ছাত্র। এই বয়সে তারা বইয়ের বদলে অস্ত্র ধরছে। আমরা সন্তানদের বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। প্রশাসনের এখনই এদের শক্ত হাতে দমন করা উচিত, তা না হলে সামনে বড় কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।’

শনিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার নগরের সংরাইশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘ক্রাইম সেটাপ বা অন্য যে নামেই হোক, সন্ত্রাসী ও গ্যাং কালচার সৃষ্টিতে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের এই নতুন গ্রুপটি আত্মপ্রকাশের তথ্য আজকে আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টির বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

কুমিল্লা নগরে কিশোর অপরাধীদের এমন বেপরোয়া আচরণ নতুন কিছু নয়। এর আগে গত বছর নগরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর অপরাধী দলের মহড়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বড় ভাইদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কিশোর দিন দিন আরও দুর্ধর্ষ হয়ে উঠছে। বিগত বছরগুলোতে কিশোর অপরাধীদের হাতে নগরে বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনাও ঘটেছে। কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নতুন নতুন দলের নামে কিশোর অপরাধীদের বিস্তার ঘটছে। প্রতিবারই দেখা যায় ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিশোর অপরাধের বিষয়ে তৎপর হয়। তখন কিছু গ্রেপ্তারও হয়। কিন্তু ধারাবাহিক নজরদারি থাকে না।