Image description

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ক্যামেরা ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ বা কোনো আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান তদন্ত প্রতিবেদন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে জমা দেন। তদন্ত কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং মো. সাইফুল আলম।

উল্লেখ্য, ‘সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট’ শিরোনামে গত ১৯ এপ্রিল দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন স্পিকার।

 

কমিটি জানিয়েছে, একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত কেনাকাটার হিসাব ও বাজারমূল্যে ব্যাপক অসংগতি ছিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক নিজেও তথ্যের ‘টাইপিং ভুল’ স্বীকার করেছেন।

কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সংসদ সচিবালয় ১২টি আইটেমের যে সরঞ্জাম কিনেছে, তার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা অনুসরণ করে। ক্যামেরা ব্যাগ, লেন্স ও অন্যান্য এক্সেসরিজের ক্ষেত্রে যে ‘হরিলুটের’ অভিযোগ আনা হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদ প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় অসংগতি ছিল লেন্সের দাম নিয়ে।

সংবাদে দাবি করা হয়েছিল, ২৪-৭০ এমএম লেন্সের দাম ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা। তবে নথিপত্র যাচাই করে কমিটি দেখেছে, তিনটি লেন্সের মোট ক্রয়মূল্য ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা (প্রতিটি ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা)।

 

তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক জানান, এটি একটি ‘টাইপিং মিসটেক’ ছিল। তিনি এই ভুলটি দাপ্তরিকভাবে সংশোধনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

 

 

এদিকে, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা আজকের (৩০ এপ্রিল) প্রিন্ট ভার্সনে অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের কথা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছে।

এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি তাদের উপসংহারে বলেছে, সংসদ সচিবালয়ের এই কেনাকাটায় কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি, তবে পদ্ধতিগত কিছু বিচ্যুতি ছিল। প্রতিবেদনে ‘হরিলুট’ শব্দটি উদ্দেশ্যমূলক এবং অতিরঞ্জিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করে কমিটি।