Image description

যুক্তরাজ্যকে অমূল্য কোহিনূর হীরা ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানাবেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। রাজা চার্লাস তৃতীয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

১০৫ ক্যারেটের এই হীরাটি ব্রিটিশ ক্রাউন জুয়েলসের অংশ, তবে এর মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে বিতর্ক। ভারত দাবি করে, ব্রিটিশ শাসনামলে এটি তাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেছেন, ‘যদি আমি অনুষ্ঠানের বাইরে আলাদাভাবে রাজার সঙ্গে কথা বলতাম, তাহলে আমি সম্ভবত তাকে কোহিনূর হীরা ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাতাম।’

তিনি ৯/১১ হামলার নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন, যেখানে তার রাজার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা ছিল।

রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা চার দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, যা শুরু হয়েছে সোমবার।

পরবর্তীতে মামদানি ওই অনুষ্ঠানে রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তবে তিনি হীরার বিষয়টি তুলেছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জনসমক্ষে করমর্দন করছেন তারা। তবে মামদানির কার্যালয় বা বাকিংহাম প্যালেস—কেউই এই সাক্ষাৎ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এটিকে দেশের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করে বহুবার কোহিনূর ফেরত চেয়েছে ভারত। অনেক ভারতীয়ের কাছে ব্রিটেনের দখলে হীরাটির থাকা উপনিবেশিক লুট ও অবিচারের প্রতীক।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন ২০১৩ সালে বলেছিলেন, হীরাটি ফেরত দেওয়া ‘যৌক্তিক নয়’।

‘কোহিনূর’ শব্দের অর্থ ফারসি ভাষায় ‘আলোর পর্বত’। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি ঘুরে এসেছে মুঘল রাজপুত্র, ইরানি যোদ্ধা, আফগান শাসক ও পাঞ্জাবি মহারাজাদের হাত।

ভারতের গোলকোন্ডা খনি থেকে পাওয়া এই হীরাটি ১৮৪৯ সালে অ্যাংলো-শিখ যুদ্ধের পর এক চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশদের হাতে যায়। তখন এর ওজন ছিল ১৮৬ ক্যারেট। চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছিলেন মাত্র ১০ বছর বয়সী শিখ শাসক দুলীপ সিং।

১৮৫১ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত গ্রেট এক্সিবিশনে হীরাটির ঐতিহ্যবাহী কাট দর্শকদের খুব একটা আকৃষ্ট করতে না পারায় পরে নতুনভাবে কেটে ডিম্বাকৃতি করা হয় এটিকে। এতে এর উজ্জ্বলতা বাড়লেও প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায় ওজন।

বর্তমানে ১০৫ ক্যারেটের আকারে প্রায় একটি মুরগির ডিমের সমান এই হীরাটি বসানো আছে রানি এলিজাবেথ দ্য কুইন মাদারের মুকুটে। তিনি ১৯৩৭ সালে তার স্বামী রাজা জর্জ ষষ্ঠের অভিষেকে এই মুকুট পরেছিলেন এবং পরে তার মেয়ে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের অভিষেকেও ব্যবহার করেন এটি।

তবে বিতর্কের কারণে রানি ক্যামিলার অভিষেকে ব্যবহার করা হয়নি এই হীরাটি। ভারতকে নিয়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বাদ দেওয়া হয় এটি। তার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় লন্ডনের টাওয়ার থেকে আনা কুইন মেরির মুকুট।