সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও আপ্যায়ন খরচ সংক্রান্ত যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, যা তার সম্মানহানির শামিল।
কালবেলার পাঠকদের জন্য মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ট্যাটাসটি নিম্নে তুলে ধরা হলো-
একজন একটি পত্রিকার ফটো কার্ড পাঠালো। সেখানে একজন সিনিয়র সাংবাদিক (যদিও আমি জানি না সিনিয়র সাংবাদিক কি জিনিস। আমরা তো সিনিয়র ফিল্মমেকার বা সিনিয়র লেখক লেখি না) ভাই লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফারুকী নাকি ভুয়া সীমানাপ্রাচীর দেখিয়ে ৬৪ লাখ টাকা বিল তুলে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, তার আপ্যায়ন খরচই নাকি ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা।
উনি আমার পরিচিত। ওনার সাথে আমার বেশ কয়েকবার কথাও হয়েছে। কিন্তু উনি যে এই দুইটাই ডাহা মিথ্যা কথা বললেন, এতে যে আমার সম্মানহানি হইলো এটা নিয়ে কি কোনো অনুশোচনা বোধ করবেন উনি?
প্রথমত, সীমানা প্রাচীর পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাজ। এটার খরচও তাদের। এখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বিল তোলার প্রসঙ্গ কোত্থেকে আসলো? তার পর আমার নাশতার বিল ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা এটাও যে ভুয়া এটা আমি আমার আগের এক পোস্টেই বলেছি।
এই মিথ্যা তথ্যগুলো কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্রিকায় একটা সংঘবদ্ধ চক্র প্রচার করছে। এই পর্যন্ত প্রচারিত প্রোপাগান্ডাগুলো নিয়ে জাতীয় যাদুঘর ইতিমধ্যেই একটা বিবৃতি দিয়েছে। কারো কোনো কিছু জানার থাকলে তাদের কাছে জানতে চাইতে পারে। কিন্তু এই যে ক্রমাগত মিথ্যাচার এটাই কি নতুন দিনের সাংবাদিকতা? যেমন কালকে আরেকজন সিনিয়র সাংবাদিকের পত্রিকায় হেডিং করেছে, ফারুকীর এলাহী কারবার। কিন্তু সংবাদের ভেতরে পড়ে বুঝবেন না উল্লিখিত সংবাদে (পড়ুন প্রোপাগান্ডায়) কোন ব্যাপারটায় ফারুকী জড়িত।
আমি জানি এটা কোন জায়গা থেকে করা হচ্ছে, কেনো করা হচ্ছে। একদিন আপনারাও জানবেন। আজকে যেমন আমরা জানতে পারছি ওয়ান ইলেভেনের সময় হাসিনার সাথে কারা গোপনে মিটিং করেছিল। ঘটনার সময়তো আর জানতে পারি নাই, তাই না? সেরকম একদিন এই হীন চক্রান্তের পেছনে সবই জানতে পারবেন। ততোদিন এই চরিত্রহনন চলবে। এটাকে আমি জুলাই নিয়ে আমার কাজের পুরস্কার হিসাবে নিলাম।
এবং এটাও মেনে নিলাম চরিত্র হনন সাংবাদিকের স্বাধীনতারই অংশ।
কিন্তু মনে রাখবেন যারা সাংবাদিকতার অ্যাডভানটেজ ব্যবহার করে আজকে আমার বা আমাদের কয়েকজনের চরিত্র হনন করছে, একদিন তারা প্রথম সুযোগেই আরও অনেকেরটা করবে। আমরাতো এই দেশে এর আগে এরকম সাংবাদিকতা দেখেছি।
তবে একটা আফসোস হয়- কেনো আমি নিজের স্বাভাবিক দুনিয়া ছেড়ে এই সরকারী দায়িত্ব গ্রহণ করলাম! আজকে এইসব ফালতু বিষয়ে কথা বলতে হচ্ছে।