Image description

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হাসিনা-রেহানার নেতৃত্বে হলেও পুকুরচুরির ব্যবস্থা করেছিলেন প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন। সেই আফজাল হোসেনকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শাস্তির বদলে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় রেল বিভাগের মহাপরিচালকের পদ। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ও সচিব ফাহিমুল ইসলাম তাকে এই সুবিধা দেন

আওয়ামী লীগ আমলে দুর্নীতি-লুটপাটের জন্য বহুল আলোচিত পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে পিডি পদে সবচেয়ে দীর্ঘকাল থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন মো. আফজাল হোসেন। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার পছন্দেই তিনি এই পদে পদায়ন পান। ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদে থাকার সময় তিনি পুরো রেলভবনই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হাসিনা-রেহানার নেতৃত্বে হলেও পুকুরচুরির ব্যবস্থা করেছিলেন প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন। সেই আফজাল হোসেনকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শাস্তির বদলে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় রেল বিভাগের মহাপরিচালকের পদ। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ও সচিব ফাহিমুল ইসলাম তাকে এই সুবিধা দেন। অবাক ব্যাপার হলো, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ আফজালকে বর্তমান বিএনপি আমলে আরেক দফায় পুরস্কৃত করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। খোদ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমই তাকে দুর্নীতির পুরস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। আফজাল হোসেন বর্তমানে ৩য় গ্রেডের কর্মকর্তা। আফজালকে ২য় গ্রেডে পদোন্নতির জন্য সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি) প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মন্ত্রী। পদোন্নতির প্রস্তাবটি এসএসবি- তে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘জিরো টলারেন্স’র বিএনপি সরকারের আমলে রেলের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ এই আফজাল হোসেনকে ডিজি পদ থেকে শুরুতেই সরিয়ে দেওয়া হবে এবং হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির দায়ে তাকে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে, এটাই ছিল স্বাভাবিক। সরকারের ভাবমর্তি উজ্জ্বল করার স্বার্থেই এমনটি হওয়াটা অপরিহার্য ছিল। কিন্তু এর পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে, এখন পদোন্নতির মাধ্যমে তাকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

পদ্মা সেতুর ৩৯ হাজার কোটি টাকাই জলে
শুধু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলেই নয়, সার্বিক বিবেচনায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লুটপাট হয়েছে পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে কতটা দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে, তা সরকারের অডিট বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনেই কিছুটা বেরিয়ে এসেছে। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ১৩,৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, প্রকল্পে বরাদ্দের এক তৃতীংশ অর্থই আত্মসাৎ হয়ে গেছে। সরকারের আর কোনো প্রকল্পে এত ব্যাপকহারে অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদতে পদ্মা সেতু নির্মাণের পর এভাবে বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে পদ্মা রেল সেতু নির্মাণের কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, প্রকল্প ব্যয়ের পুরো ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকাই জলে গেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে বলা হয়েছিল যে, পদ্মা রেল সেতুর দুর্নীতি-লুটপাটের বিষয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রেল বিভাগের মন্ত্রী-সচিবসহ কর্মকর্তারা ছাড়াও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানা এই দুনীতি-লুটপাটে সরাসরি জড়িত। অবশেষে বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণও মিলেছে সরকারের অডিট প্রতিবেদনে। কিন্তু তারপরও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ ব্যাপারে কোনোই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং এসব গুরুতর অনিয়মে সরাসরি জড়িত কর্মকর্তারা শাস্তির পরিবর্তে পেয়েছেন পুরস্কার, সৎ দাবিদার উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের হাত দিয়ে। শুধু তাই নয়, এই পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে হাসিনা-রেহানারা ভয়াবহ দুর্নীতির খতিয়ান এখনও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জানা যায়, গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন গত বছরের শেষ দিকে নড়েচড়ে উঠেছিল। কিন্তু রেল বিভাগ থেকে যোগাযোগ করে তা থামিয়ে দেওয়া হয়। রেল বিভাগের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন নিজেই রেল সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে ছিলেন। এই পদে থাকার সুবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ডিজি আফজাল হোসেন দুদককে বলেছেন, অডিট প্রতিবেদনের সবই মীমাংসা হয়ে যাবে। কাজেই এ নিয়ে অগ্রসর হওয়ার আর প্রয়োজন নেই। সেসময় তিনি এ বিষয়ে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং সচিব ফাহিমুল ইসলামের রেফারেন্সও ব্যবহার করেন। উপদেষ্টা এবং সচিব দুর্নীতির তদন্ত চান না, এমন কথা তিনি দুদককে জানান। ফলে দুদকের পক্ষে তদন্তটি নিয়ে আর অগ্রসর হওয়ার সম্ভব হয়নি।
অডিট রিপোর্টে সাড়ে ১৩ হাজার গুরুতর অনিয়মের মধ্যে মোটেই ‘মীমাংসা যোগ্য নয়’ এ রকমের অনিয়ম রয়েছে ৯ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা। ‘মীমাংসা যোগ্য নয়’ এমন গুরুতর অনিয়মগুলোও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে রেল বিভাগে। এটা হচ্ছে খোদ মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের তত্ত্বাবধানেই, যিনি এসব দুর্নীতি-অনিয়ম ও অর্থ আত্মাসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এতো অপকর্মের পরেও উপদেষ্টা ফাওজুল কবির এবং সচিব ফাহিমুল ইসলাম তাকে প্রকল্প পরিচালক থেকে সরাসরি ডিজি পদে পদোন্নতি দেন। তাও অন্য একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে। এর মধ্যে একজন ছিলেন, যিনি মেধা তালিকায় আফজাল হোসেনের ব্যাচের প্রথম ব্যক্তি। ৩য় গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন অনেক আগে। এমনকি রেল বিভাগে তুলনামূলক সৎ হিসেবেও তার কিছুটা পরিচিতি রয়েছে। তবে সৎ দাবিদার উপদেষ্টা চাকরিতে ও পদে জুনিয়র, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকেই পছন্দ করেন! উপদেষ্টার এমন অসৎ বা দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে অবাক হন রেল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবশ্য, এতে অত্যন্ত খুশি হন রেলের অন্যান্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা, যারা অতীতে আওয়ামী লুটপাটের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

অডিট রিপোর্টে দুর্নীতির বিস্তারিত চিত্র
‘মীমাংসা যোগ্য নয়’ এমন গুরুতর অনিয়মগুলোর তথ্য সম্পর্কে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেদের মধ্যে যোগসাজশে ঠিকাদারকে অবৈধ সুবিধা দেয়ার জন্য মূল চুক্তির বাইরে ইঙছ- তে ৫৫৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে তা আত্মসাত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণে মূল নকশার চেয়ে গড়ে ১.৭ মিটার কম উচ্চতায় (সংশোধিত নকশা অনুযায়ী) মাটি ভরাটসহ অন্যান্য আইটেমের পরিমাণ কমে যাওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারদের অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ রকমের ভয়াবহ অনিয়মের মাধ্যমে ২,১৩০ কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণে মূল স্পেসিফিকেশনের চেয়ে বালির স্তরের পরিমাণ গড়ে ২০০ এমএম কম প্রদান করা সত্ত্বেও ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল প্রদান করা হয়েছে ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রগ্রেস রিপোর্টের তুলনায় কাজ বেশি দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১০১১ কোটি টাকা। পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের কাজকে ‘বিশেষায়িত’ কাজ দেখিয়ে প্রাক্কলনের ১৭.১৫% উচ্চমূল্যে (ইপিসি/টার্নকি) চুক্তি করা হয়, যার মাধ্যমে আত্মসাত হয়েছে ৩,৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের ১৩ হাজার ৩৬১ টাকা আর্থিক ক্ষতি ও আত্মসাত করা হয়েছে।

উপদেষ্টার পর এখন মন্ত্রীর সঙ্গে সখ্যতা আফজালের
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বাংলাদেশ সরকারের সচিব ছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঘোষিত থিংকট্যাংক এর একজন অন্যতম সদস্য হিসেবে তাঁকে ধরা হয়। মূলতঃ সেই ক্রাইটেরিয়ায়ই তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা হিসেবে আবির্ভূত হন। তাকে দেওয়াও হয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। কিন্তু তিনি যে সরকারের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে উল্টো দুর্নীতিবাজদের কাছে টেনে নিবেন, এটা কেউ কল্পনাও করেনি!

ফ্যাসিস্ট ও লুটেরা হাসিনা-রেহানার পছন্দের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবিরের ঘনিষ্ট হলেও এখন তিনি চলছেন বিএনপি রেল ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের ছত্রছায়ায়। আফজাল ও রবিউলের মধ্যে বিশেষ একটা সমঝোতা বলেও রেল খাতের সর্বত্র আলোচনা আছে। মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আফজাল আরেকটি পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার সব প্রস্ততি সম্পন্ন করেছেন।

ডিজি আফজালের দুর্নীতির চর্চা চাকরির শুরু থেকেই
শুধুমাত্র পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পেই যে দুর্নীতি-লুটপাট করেছেন তা নয়, মো. আফজাল হোসেন চাকরি জীবনে প্রত্যেকটি কর্মস্থলেই বড় মাত্রায় আখের গোছানোর কাজে জড়িত ছিলেন। এর আগে মো. আফজাল হোসেন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত পদ্মা রেল প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী, জুন ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনা-মোংলার পিডি, ৩রা ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ২৬ আগস্ট ২০১৯ পর্যন্ত রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, আগস্ট ২০২০ হতে সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত ঢাকা-টঙ্গী ৩য় ও ৪র্থ লেন প্রকল্পের পিডি পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও আওয়ামী লীগের দোসর এবং ফ্যাসিস্ট-লুটেরা শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে ২য় গ্রেডের পদ- পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের পিডি পদে নিয়োগ পান ১১ জুন ২০২১।

আফজাল হোসেন পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের পিডি, খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের পিডি, পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা-টঙ্গী রেল প্রকল্পের পিডি থাকাকালে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ সম্পাদন করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছেন। আফজাল হোসেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে মন্ত্রী মুজিবুল হক এবং পরের মন্ত্রী সুজনের দুর্নীতির ডানহাত হিসেবে এসব পদে কর্মরত থাকাকালে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট করেছেন। মানিলন্ডারিং, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই। উপার্জিত অর্থ নিজ নামে, স্ত্রী-সন্তান, শ্যালক-শালিকা, ভাই-বোনদের নামে বিভিন্ন একাউন্ট খুলে অর্থ সঞ্চয়, ডিপোজিট স্কিম, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও নিজ বাড়ি টাঙ্গাইলে জমি ক্রয় এবং দালান-কোঠা নির্মাণ করেছেন। তবে বেশিরভাগ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন তিনি। কিন্তু যেহেতু তিনি আওয়ামী সরকারের শীর্ষ মহলের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন তাই প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি দুদক। ০০.০.০০০০.৫০৩.২৬.৪৪৭.২০-৮৭৯৯ নং স্মারক ও ০৯.০৩.২০২১ তারিখের নথিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য, ভুয়া চালান বানানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগ দুদকে অনুসন্ধানাধীন আছে। তাছাড়া দুদকে মানি লন্ডারিংয়েরও অভিযোগ রয়েছে। পতিত আওয়ামী সরকারের আমলা ও রাজনীতিকদের তদবির এবং এর সঙ্গে বিপুল অংকের অর্থ খরচ করে নথি চাপা দেওয়া রয়েছে। ভয়াবহ দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের অধীন একটি রেল স্টেশন নির্মাণের চিত্র থেকেই। ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশন, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ব্যয়ই যথেষ্ট ছিল সেই রেল স্টেশন নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। মূল প্রকল্পে এখানে বিপুল ব্যয়ে রেল স্টেশন নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেনই অন্য কৌশলে এটিকে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক এই পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নেয়। এরপরেই এক পর্যায়ে চীনের সঙ্গে সেতু নির্মাণের চুক্তি হয়। দুর্নীতিবাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে হাতে নিয়ে দফায় দফায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে নেয় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশের গরিব জনগণের অর্থ লুটপাটের ফন্দি হিসেবে পরবর্তীতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প নামে নতুন আরেকটি বৃহৎ এবং বিতর্কিত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। যদিও পদ্মা সেতু নির্মাণের পর একই স্থানে এ ধরনের বৃহৎ আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার আদৌ কোনো প্রশ্ন ছিল না। তারপরও প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয় শুধুমাত্র লুটপাটের সুবিধার জন্য। শুরুতে ২০১৬ সালে একনেকে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প অনুমোদনের সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে অনেকটা অযৌক্তিকভাবেই প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা করা হয়।

শীর্ষনিউজ