Image description

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বলেছে, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বিশ্বাসযোগ্য, দক্ষভাবে পরিচালিত এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের প্রধান ইভারস ইজাবস এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া কীভাবে গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনকে ত্বরান্বিত করতে পারে—এই নির্বাচন তারই বাস্তব উদাহরণ। একই সঙ্গে ২০০৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো নির্বাচন প্রকৃত অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতাগুলো তুলনামূলকভাবে বজায় থাকে।

তবে প্রতিবেদনে কিছু উদ্বেগও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার নির্বাচনী পরিবেশকে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগও সীমিত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। 

ইইউ মিশন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে জানিয়েছে, কমিশন স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে এবং অংশীজনদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইজাবস আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ভোটগ্রহণ, স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা এবং ফলাফলের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে যে, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণকে এগিয়ে নিতে পারে।’

নির্বাচনটি একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, যা আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের সঙ্গে মূলত সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে ইইউ। ২০২৫ সালের সংশোধনীগুলো নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য জোরদারে কিছু সংস্কার উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল।

তবে এসব অগ্রগতির পরও ইইউ মিশন মনে করে, দেশের নির্বাচনী আইনগত কাঠামো এখনো খণ্ডিত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যমান সংশোধনীগুলো সব দুর্বলতা ও অস্পষ্টতা দূর করতে পারেনি।