Image description

ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ভোক্তাদের মধ্যে। সারা দেশে তেল সংকটে পাম্পে দীর্ঘ লাইন থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ঘোড়াঘাটে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে মজুত আছে পর্যাপ্ত, কিন্তু নেই আগের মতো ক্রেতার ভিড়। ফলে অনেকটা অলস সময় পার করছেন পাম্পকর্মীরা।

 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে পৌর শহরের সাধনা এবং ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও যেখানে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যেত, সেখানে এখন পুরো পরিবেশই অনেকটা ফাঁকা। অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

 

মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন আর সেই ভোগান্তি নেই। ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার কারণে দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে।

 

তবে অনেকেই মনে করছেন, আগে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের অজুহাতে তেল সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রবণতাও কমেছে।

 
 

 

পৌর শহরের ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আহাদ হোসেন বলেন, কেনাবেচা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। স্টোরেজ ট্যাংকে তেল জমে থাকছে, আবার নতুন সরবরাহও আসছে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার লিটার পেট্রোল আসার অপেক্ষায় রয়েছে। যদি বিদ্যমান তেল শেষ না হয়, তাহলে লরিতে তেল রেখে দিতে হবে, যা আমাদের জন্য চাপ তৈরি করছে।

 

পৌর শহরের সাধনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আগে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি হতো। এখন সেই পরিমাণ তেল বিক্রি করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগছে। নতুন করে সরবরাহও আসছে, ফলে কোনো সংকট নেই।

 

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার ফলে জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। বর্তমানে কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।