Image description

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিরূপণে সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (আইডিএমএস)’ নামে সফটওয়্যার প্রকল্প হাতে নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মোবাইল অ্যাপ, ওয়েব অ্যাপ ও ওয়েবসাইট— এই তিন প্ল্যাটফর্মে এটাকে তৈরি করা হবে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্য যাচাই, ভাতা (জিআর, টিআর, কাবিটা) বণ্টনে স্বচ্ছতা এবং একাধিকবার সুবিধা গ্রহণ রোধে সহায়ক হবে। তবে উচ্চ ব্যয় ও বাস্তবায়ন জটিলতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাত ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ‘আইডিএমএস’ প্রকল্পটি নেয় সরকার। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৯ কোটি টাকা; যার মধ্যে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হবে সফটওয়্যার উন্নয়নে। বাকি অর্থ এ মন্ত্রণালয়ের মাঠ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পাইলটিং এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় হবে। সফটওয়্যারের জন্য আগামী জুনে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আইডিএমএস একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাই করা হবে। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে এটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা হবে। এ উপলক্ষে দুটি সংস্থার মধ্যে একটা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। এটার সঠিক প্রয়োগ হলে একজন ব্যক্তি একাধিকবার একই সুবিধা নিতে পারবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, সফটওয়্যারটি তৈরি শেষে তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি অনলাইন পরিষেবা বা হোস্টিং সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা ও বাগেরহাটের শরণখোলাসহ ১৮টি উপজেলায় পাইলটিং হবে। এ সময় ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অপর এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আমার দেশকে বলেন, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা, সরকারি অর্থের অপচয় কমানো এবং তথ্যের পুনরাবৃত্তি বা ওভারল্যাপিং রোধ করা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর ডিজিটাল সমাধান হতে পারে। তবে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অর্থ অপচয় বা অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করাও সহজ হবে না। ফলে উচ্চ ব্যয়ের এই প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, নাকি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও এর উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত হয়ে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) মো. সালাহউদ্দীন।