নেত্রকোনার পূর্বধলায় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা, অবরুদ্ধ করা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং রাতেই অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় এ মামলা করেন।
মামলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর রাতেই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার বিকেলে একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে সন্ধ্যায় আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে মাগরিবের নামাজ পড়তে নামেন এমপি মাছুম মোস্তফা। প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, এ সময় ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে আসা একদল যুবক পাম্পে হট্টগোল শুরু করে এবং এমপির ব্যক্তিগত গাড়িটি ভাঙচুর করে। এমপি নামাজ শেষ করে বের হতে চাইলে তাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই বিএনপির নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে।’
অন্যদিকে, প্রধান আসামি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। খবর পেয়ে আমাদের দলের যুগ্ম আহবায়ক বাবুল আলম তালুকদারকে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। অথচ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ও আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই প্রতিহিংসার রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানাই।’
উল্লেখ্য, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাছুম মোস্তফা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং আবু তাহের তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিদারুল ইসলাম গতকালের ঘটনায় ৬০ জনের নামোল্লেখ করে এবং ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মামলার ২০ নম্বর আসামি মো. খায়রুল ইসলাম রয়েছেন, বাকি ৮ জন সন্দেহভাজন। তাদের আজ নেত্রকোনা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।