Image description

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে আবারও মুখ খুলেছেন সংগঠনটির বিলুপ্ত কমিটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে প্রচারণায় অজ্ঞাত উৎস থেকে আসা অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ‘সংগঠন ভাঙার ষড়যন্ত্রে’ অভিযুক্ত করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৫৩ মিনিটে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন সিনথিয়া। একই সঙ্গে গণভোটের প্রচারণার সময়ে আর্থিক দুর্নীতি অস্বীকারের একটি স্ক্রিনশটও যোগ করেছেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে সিনথিয়া জাহীন আয়েশা লিখেছেন, গতকাল রিফাত রশিদের একটি ভিডিওবার্তায় বেশ কিছু অসত্য, মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়েছে, আমি নাকি গণভোটের প্রচারণায় যুক্ত হতে চাইনি— তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর। বাস্তবতা হল, ‘স্যাড’ নামের একটি ফাউন্ডেশনে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব আমি নীতিগতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছি। কিন্তু গণভোটের প্রশ্নে আমরা সকলেই একমত ছিলাম যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালানো হবে। ২৭ জানুয়ারির এক মিটিংয়ে তারা নিজেরাই জানিয়েছিল যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রত্যাশিত ফান্ড না পাওয়ায় গণভোটের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই হঠাৎ করে একটি অনলাইন মিটিংয়ে ঘোষণা দেওয়া হয় যে সারাদেশব্যাপী সফরের মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে প্রচারণা চালানো হবে। তখন আমি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলাম এই বিশাল কর্মসূচির অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে? উত্তরে রিফাত রশিদ নিজেই বলেছিলেন, ব্যক্তিগত খরচে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

680139197_1003737638921078_9083689173085939611_n
ফেসবুক পোস্টে চারটি স্ক্রিনশটের এই কোলাজ যুক্ত করেছেন সিনথিয়া জাহীন আয়েশা

 

সিনথিয়া আরও লিখেছেন, আমার ফাইনাল পরীক্ষা চলমান থাকায় শুরুতে যুক্ত হতে পারিনি। পরবর্তীতে যখন অর্থনৈতিক বিষয়গুলো অস্পষ্ট এবং অসঙ্গতিপূর্ণ থেকে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমি এই কার্যক্রম থেকে নিজেকে দূরে রাখি। কিন্তু এখন আমরা দেখছি রিফাত রশিদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১ কোটি টাকা ফান্ড তারা পেয়েছেন গণভোটের প্রচারণার জন্য। প্রশ্ন হল— তাহলে কেন আমাদের কাছে এই তথ্য গোপন করা হয়েছিল? কেন বারবার অস্বীকার করা হয়েছিল? কেন আমাদের প্রশ্ন তোলাকে ‘সংগঠন ভাঙার ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল? এই গোপনীয়তার একটাই যৌক্তিক ব্যাখ্যা হতে পারে এই অর্থের ব্যবহারে গুরুতর অনিয়ম, আত্মসাৎ বা দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই শুরু থেকেই বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তার ভাষ্য— আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি (রিফাত রশিদ) দাবি করেছেন যে ‘ওয়ান-থার্ড’ মতামতের ভিত্তিতে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে, এটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। বাস্তবে, ১৯ তারিখ ১১টায় একটি অনলাইন মিটিং ডেকে আমাদের কোনো মতামত গ্রহণ না করেই পূর্বনির্ধারিত একটি উপদেষ্টা কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা আমরা তখনই প্রত্যাখ্যান করি। তারপরও তারা অবৈধভাবে কেন্দ্রীয় ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্থগিত ঘোষণা করে এবং সেই তথাকথিত উপদেষ্টা কমিটি চাপিয়ে দেয়। আজও সেই পেজটি তারা অবৈধভাবে দখলে রেখেছে এবং সেটির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়াচ্ছে। এমনকি এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার পরেও অন্য একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতার বক্তব্য সেই পেজ থেকে প্রচার করা হচ্ছে যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত কমিটির মুখপাত্র লিখেছেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই এই অবৈধ দখলদারিত্ব, তথ্য গোপন এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে আমরা খুব শিগগিরই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করব এবং আমাদের কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম পুনরুদ্ধার করব। দেশব্যাপী সকল নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান এই ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকুন এবং সত্যের পক্ষে অবস্থান নিন।