Image description

দেশের নামিদামি শপিং মল থেকে শুরু করে গলির দোকানেও ছড়িয়ে পড়ছে নকল স্মার্টফোন। অধিক লাভের আশায় আইফোন, স্যামসাং থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্র্যান্ডের ফোন নকল করা হচ্ছে। এতে একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। প্রতারণার শিকার হচ্ছে ক্রেতারা। এসব নকল ফোন তৈরি চক্রের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

অবৈধভাবে বিদেশ থেকে নিম্নমানের পার্টস এনে ভুয়া আইএমইআই যুক্ত করে তৈরি করা হয় নামিদামি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন! এসব ফোনের কোনো রেজিস্ট্রেশন থাকে না। ফলে বিটিআরসির এনইআইআর ডাটাবেজে এসব ফোন অবৈধ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। গোয়েন্দারা

বলছেন, অপরাধীরা এসব নকল ফোন কেনার প্রতি বেশি ঝুঁকছে। নকল মোবাইলের আইএমইআই নম্বর ভুয়া হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। তাই নকল ফোন তৈরি বন্ধ করা না গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি দিনদিন আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, নকল ফোন তৈরি করতে চায়না থেকে পার্টস লাগেজ পার্টির মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে আসছে। সীমান্তের চোরাই পথেও আসে এসব পার্টস। এরপর চায়নিজ চক্রের মাধ্যমে দেশেই তৈরি হচ্ছে এসব নকল স্মার্টফোন। ডিবি সূত্র জানায়, চায়নিজ চক্রের সদস্যরা বেশিদিন বাংলাদেশে থাকে না। তিন-পাঁচজনের একেকটি টিম অল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে আসে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা ফোনের সেটআপ করে দিয়ে চলে যায়। ১২ এপ্রিল রাজধানীর তুরাগের একটি বাসা থেকে শাহরিয়ার সরকার রাজা, মো. রনি মিয়া ও শ্রী নয়ন চন্দ্র সূত্রধর নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি মতিঝিল বিভাগ। তাদের কাছ থেকে অপো এ-৩ এস মডেলের ১৬টি, এ-৩ এক্স মডেলের তিনটি, ফাইন্ড এক্স-৭ মডেলের ৭টি, এফ ২৭- প্রো মডেলের ৫টি, এ-থ্রি প্রো ৬টি, স্যামসাং এস-২৫ আল্ট্রা ৬টি, ভিভো ওয়াই-৩৬ মডেলের দুটি, রেডমি ১২ মডেলের ৪১টি, রেডমি ১৩-সি মডেলের ১০৪টি, ভিভো ওয়াই-১৭ মডেলের ২৫২টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এন্ড্রোয়েড ফোনের সাড়ে ৩ হাজার খালি বাক্স জব্দ করা হয়। এ ছাড়াও ওই বাসা থেকে পাঁচটি ল্যাপটপ, মোবাইলের বক্সে ব্যবহৃত সিল তৈরির তিনটি মেশিন, একটি মাল্টিচার্জার, পার্টসে ব্যবহৃত হিট মেশিন, একটি স্পিড মিটার, আইএমইআই নম্বর ছাপানোর মেশিন, ৭০০টি ডিসপ্লে, ২ হাজার ২৬০টি ব্যাক পার্ট, ৫৬০টি অ্যাডেপটর, নকল চার্জার কেবল ৫৪০টি, ব্যাক কাভার ২ হাজার ১৯০টি, ১ হাজার নকল ব্যাটারি, ২ কার্টুন বিভিন্ন ছোট পার্টস জব্দ করা হয়। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চীন থেকে আনা এসব পার্টস দিয়েই বাংলাদেশে নকল স্মার্টফোন তৈরি করা হচ্ছিল।

ডিবি জানায়, শ্রী শুশান্ত চন্দ্রধর নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে চক্রটি চাইনিজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে পরিচিত হয়। প্রতি মাসে একবার তিনজনের একটি চায়নিজ চক্র তাদের তুরাগের ভাড়া বাসায় আসত। ৫-৭ দিনের মধ্যে তারা মোবাইল সেটআপ থেকে শুরু করে আইএমইআই স্থাপন করে দিয়ে আবার চায়নায় চলে যেত। এভাবে প্রতি মাসে হাজারেরও বেশি মোবাইল তৈরি করে চক্রের দেশীয় সদস্যরা বিভিন্ন শপিংমল ও ফোন বিক্রির দোকানে অর্ধেক দামে বিক্রি করতো। দোকানীরাও অধিক লাভের আশায় এসব ফোন সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছে। এ বিষয়ে ডিবির মতিঝিল বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদার বলেন, সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নকল ফোন তৈরির একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে এ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি আরও অনেকের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

আগেও নাম এসেছে চায়নিজ চক্রের : গত ৭ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকায় চীনা নাগরিকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি অবৈধ আইফোন সংযোজন কারখানার সন্ধান পায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে ট্যান জিয়ান, উ জুন এবং ডং হংওয়েই নামে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারাও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোবাইল ফোনের পার্টস (যন্ত্রাংশ) এনে সেখানে অবৈধভাবে আইফোন তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকল ফোন কিনে প্রতারণা হওয়া থেকে বাঁচতে আইএমইআই নম্বর, মোবাইলের বক্স, স্টিকার ও অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি যাচাই করতে হবে।