Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রাপ্ত ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেবা আমিনা খানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব, হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন এবং বিভিন্ন ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাকার বনানীর বাসিন্দা নাদিম মাহমুদ ও মাসুদ মৃধা নামে দুই ব্যক্তি পৃথকভাবে এ অভিযোগ জমা দেন। মাসুদ মৃধার পক্ষে আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হোসনে আরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করে রিসিভ কপি সংগ্রহ করেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, জেবা আমিনা খান বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগকারীদের মতে, সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিক হলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকে না।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নির্বাচনি হলফনামায় নিজের স্থাবর সম্পদের পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেননি। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশানের ১০৮ নম্বর রোডের একটি প্লটে তার নামে সাতটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্স দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া, যার পরিমাণ ৩২ লাখ টাকার বেশি।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

এছাড়া যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে তার নাম পরিচালক হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যা পরে বন্ধ হয়ে যায়। তার নাগরিকত্ব, বিদেশে বসবাস এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আরও অভিযোগে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে বাইগ্যামি, জালিয়াতি,

পারিবারিক বিরোধ, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং সশস্ত্র হামলার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।

অভিযোগকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগকারী মাসুদ মৃধার আইনজীবী বলেন, “আমাদের মক্কেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। কমিশন ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এদিকে জেবা আমিনা খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জিয়াউদ্দিন মিজান অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তার মনোনয়ন বৈধ করেছে এবং এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

উল্লেখ্য, জেবা আমিনা খান ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ঝালকাঠি-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

শীর্ষনিউজ