Image description

বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি’র সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ সংশ্লিষ্ট সাত হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আদালতের নির্দেশনায় এসব সম্পদ বর্তমানে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় রয়েছে। দুদকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে এখন পর্যন্ত মোট ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে দুদক ১১টি এবং সিআইডি ১৭টি মামলা করেছে। এসব মামলার বিপরীতে আদালতের নির্দেশনায় সম্পদগুলো ফ্রিজ রাখা হয়েছে। দুদক ও আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফ্রিজ হওয়া সম্পদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা  ইউনিটের। এ ইউনিটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আদালতের নির্দেশনায় যেসব সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করা হয়, আমাদের ইউনিট থেকে কমিশনকে তা অবগত করা প্রাথমিক কাজ। এছাড়া, আমাদের সহায়তায় অনুসন্ধান বা তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানিয়ে থাকেন। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জব্দ করা কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ যেন হস্তান্তর না হয় তা নিশ্চিত করা।

 

জব্দ হওয়া সম্পদের বিবরণ

জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে যৌথ টিমের করা মামলার বিপরীতে আদালতের আদেশে ফ্রিজ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে— ১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে ৬৭.৫৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। ৯৪টি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার। এছাড়া, ১৯৭০.৪৬৭ শতাংশ জমি (আনুমানিক মূল্য ১১.৯৩ কোটি টাকা) এবং লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট (আনুমানিক মূল্য ৭.৭৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা প্রায় ১২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা)।

দুদকের মামলা ও অনুসন্ধান

দুদকের উপ-পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি জাতীয় টাস্কফোর্স বেক্সিমকো গ্রুপের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। দুদক এখন পর্যন্ত ১১টি মামলা দায়ের করেছে এবং আরও প্রায় এক ডজন মামলার প্রস্তুতি চলছে। এসব মামলায় বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সালমান এফ রহমানের ছেলের নামে লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়ায় পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে দুদক দুটি এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠিয়েছে।    

dhakapost
বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে / ছবি- সংগৃহীত

২০০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের ৫ মামলা

রপ্তানি দেখিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এলসির বিপরীতে ঋণের ১ হাজার ৯৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকার আত্মসাৎ ও পাচারে অভিযোগে সালমান এফ রহমান, তার ভাই, দুই ছেলে এবং জনতা ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর পৃথক পাঁচটি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোতে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেড দেখিয়ে ৫ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২.২৫ মার্কিন ডলার, প্লাটিনাম গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮.৯১ ডলার, কাঁচপুর এপারেলস লিমিটেডের নামে ৮ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৭.৪৫ ডলার, স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৪০ ডলার এবং ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৮২.৪৬ ডলার। সবমিলিয়ে মোট ২১ কোটি ৫৫ লাখ ২৮ হাজার ৮০১. ডলার বা ১ হাজার ৯৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে যৌথ টিমের করা মামলার বিপরীতে আদালতের আদেশে ফ্রিজ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে— ১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে ৬৭.৫৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। ৯৪টি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার। এছাড়া, ১৯৭০.৪৬৭ শতাংশ জমি (আনুমানিক মূল্য ১১.৯৩ কোটি টাকা) এবং লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট (আনুমানিক মূল্য ৭.৭৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা প্রায় ১২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা)

মামলার আসামিরা হলেন— বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তার ভাই ও গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এ.এস.এফ. রহমান, দুই ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, গ্রুপের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওসমান কায়সার চৌধুরী, পরিচালক এ.বি. সিদ্দিকুর রহমান, পরিচালক মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, পরিচালক শাহ মঞ্জুরুল হক ও পরিচালক রীম এইচ. শামসুদ্দোহা, স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল বাশার, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নাসরিন আহমেদ, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজের এমডি আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, প্লাটিনাম গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলিফ ইবনে জুলফিকার ও পরিচালক মোসা. নুসরাত হায়দার, পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসীউর রহমান ও পরিচালক রিজিয়া আক্তার, নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন খান মজলিস ও পরিচালক আব্দুর রউফ এবং কাঁচপুর অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান খান ও পরিচালক সৈয়দ তানবির এলাহী আফেন্দী।

অন্যদিকে, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা হলেন— ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ ও আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আব্দুর রহিম, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শহিদুল হক, সাবেক রপ্তানি বিভাগের ডিজিএম মো. মমতাজুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার রফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক (বিবিএলসি) মো. সালেহ আহম্মেদ, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন,সাবেক এজিএম (রপ্তানি) মোহাম্মদ শাজাহান, ব্যবস্থাপক ও অবসরপ্রাপ্ত এজিএম (রপ্তানি) মো. হুমায়ুন কবির ঢালী এবং  প্রিন্সিপাল অফিসার শ.ম. মাহাতাব হোসাইন বাদশা।

১১৭৪ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি

২০২৫ সালের ৩ জুন অপ্রতুল জামানত ও জাল সাব-কন্ট্রাক্ট চুক্তি দেখিয়ে অস্তিত্বহীন কোম্পানির নামে ঋণ দেখিয়ে প্রায় ১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমান ফজলুর রহমান, তার ছেলে ও আইএফআইসি ব্যাংকের এমডিসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা করে দুদক।

যার মধ্যে প্রথম মামলায় আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২২ জন এবং ৪৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলায় ১৭ জনকে আসামি করা হয়।

প্রথম মামলায় আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসিতে প্রায় ৬১৮ কোটি টাকা জালিয়াতি, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। কোনো সহায়ক জামানত বা সঠিক মূল্যায়ন ছাড়াই ২০২৪ সালের ২০ মার্চ এবং ১২ জুন পরিচালনা পর্ষদের দুটি সভায় মোট ৬১৮ কোটি ৯ লাখ ৩১ হাজার ৭৫ টাকা ৮৫ পয়সা বিতরণের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। যা সুদ-আসলে দাঁড়ায় ৬৭৭ কোটি ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

মামলার আসামিরা হলেন— সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, সাবেক পরিচালক শাহ মনজুরুল হক, সুধাংশু শেখর বিশ্বাস, আর.এম. নাজমুস সাকিব, কামরুন নাহার আহমেদ, গুলাম মোস্তফা ও মো. জাফর ইকবাল। এছাড়াও আসামির তালিকায় রয়েছেন— আইএফআইসি ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুনসুর মোস্তফা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সারোয়ার, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং তৎকালীন চিফ বিজনেস অফিসার মো. নুরুল হাসনাত।

ব্যাংকের আইটি ও ট্রেজারি বিভাগ থেকেও আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— ব্যাংকটির তৎকালীন চিফ ইনফরমেশন অফিসার মনিতুর রহমান, হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন, হেড অব ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সৈয়দ হাসনুজ্জামান, সাবেক হেড অব অপারেশন হেলাল আহমেদ, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ রিস্ক অফিসার ইকবাল পারভেজ চৌধুরী এবং তৎকালীন চিফ ম্যানেজার হোসাইন শাহ আলী।

এছাড়া, শীর্ষ ঋণগ্রহীতা হিসেবে নাম এসেছে— গ্রোয়িং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর আলম চৌধুরী এবং চোয়া কনস্ট্রাকশনের পরিচালক সৈয়দা মুনিমা হোসেন, আইএফআইসি’র প্রিন্সিপাল শাখার অ্যাকটিং ইনচার্জ তাছলিমা আক্তার এবং তৎকালীন রিলেশনশিপ ম্যানেজার সরদার মো. মমিনুল ইসলামকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

dhakapost
দুদক এখন পর্যন্ত ১১টি মামলা দায়ের করেছে এবং আরও প্রায় এক ডজন মামলার প্রস্তুতি চলছে / ছবি- সংগৃহীত

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় ৪৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৪৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আসল, বাকিটা সুদ। এ মামলায় মোট ১৭ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা, বেক্সিমকো গ্রুপ ও আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি’র সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমান, ব্যাংকটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, সাবেক পরিচালক ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সার্ভ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিডি নামের কাগুজে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সুলতানা মনামী, ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি মো. মনিরুল ইসলাম, আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম সারোয়ার, সাবেক পরিচালক রাবেয়া জামালী, আর.এম. নাজমুস সাকিব, কামরুন নাহার আহমেদ ও মো. জাফর ইকবাল, তৎকালীন চিফ ম্যানেজার ও বর্তমানে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম; সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব আইডি শাহ মো. মঈনউদ্দিন, সাবেক চিফ বিজনেস অফিসার ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হাসনাত, বর্তমান উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ অব আইটি মো. মনিতুর রহমান, হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন, তৎকালীন রিলেশনশিপ ম্যানেজার ও বর্তমানে ম্যানেজার (নারায়ণগঞ্জ শাখা) আবদুর রহমান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজার (কর্পোরেট ফাইন্যান্স) কৌশিক কান্তি পণ্ডিত।

১৩৬ কোটি টাকার মামলা

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সালমান ফজলুর রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় তার ভাই এ.এস.এফ. রহমান, ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকেও আসামি হয়। এছাড়া, বেক্সিমকোর পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ.বি. সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, এইচ. শামসুদ্দোহা ও এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরীকে আসামি করা হয়।

মামলায় জনতা ব্যাংকের তৎকালীন সিইও আব্দুছ ছালাম, তৎকালীন ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক উপ-ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক সহ-ব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক এজিএম শাজাহান, সাবেক এজিএম মো. হুমায়ুন কবীর ঢালী, সাবেক ম্যানেজার শ.ম. মাহাতাব হোসেন ছাড়াও আসামি হয়েছেন কোজি এপারেলস লিমিটেডের এমডি মো. মাহফুজুর রহমান খান, পরিচালক সৈয়দ তানভীর এলাহী, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেডের এমডি আবু নাঈম মাহমুদ ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জনতা ব্যাংকের গ্রাহক কোজি এপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ সুবিধা মঞ্জুর ও প্রদান করে এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে মালামাল আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কোজি এপারেলস লিমিটেডকে ‘নতুন’ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।

৮০০ কোটি টাকা লোপাটে মামলা

জাল জামানত ও অতিমূল্যায়িত সম্পত্তির মাধ্যমে বন্ডের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সালমান এফ. রহমান এবং বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল মামলা করে দুদক।

dhakapost
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত আগস্ট মাসে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক / ছবি- সংগৃহীত

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন— সালমানের ছেলে আইএফআইসি’র সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, ব্যাংকটির সাবেক এমডি মো. শাহ আলম সারোয়ার, ব্যাংকটির সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক সুধাংশু শেখর বিশ্বাস, এ.আর.এম. নাজমুস সাকিব, কামরুন নাহার আহমেদ, সাবেক পরিচালক রাবেয়া জামালী, গোলাম মোস্তফা, মো. জাফর ইকবাল, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ক্রেডিট অফিসার সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, হেড অব লোন পারফর্মেন্স ম্যানেজমেন্ট শাহ মো. মঈনউদ্দিন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, গীতাঙ্ক দেবদীপ দত্ত, মো. নুরুল হাসনাত ও মনিতুর রহমান, ব্যাংকটির হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন, ধানমন্ডি শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও এফভিপি নাজিমুল হক, সাবেক ব্যবস্থাপক হোসাইন শাহ আলী, রিলেশনশিপ ম্যানেজার সরদার মো. মমিনুল ইসলাম, এসপিও আয়েশা সিদ্দিকা ও এফএভিপি সিলভিয়া চৌধুরী। এছাড়া, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)সাবেক কমিশনার রুমানা ইসলাম, মিজানুর রহমান, শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ ও মো. আবদুল হালিমকেও আসামি করা হয়।

আসামি করা হয় সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিমাই কুমার সাহা, কোম্পানি সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান এবং শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউজ্জামান ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তিলাত শাহরিনকে।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত আগস্ট মাসে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।