চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে সরকার। যদিও এ সময়ে প্রবৃদ্ধি এসেছে ১১.১৫ শতাংশ।
এর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ ঘাটতি বেড়েই চলছে।
জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় অংকের এই রাজস্ব ঘাটতি উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২১ এপ্রিল এনবিআরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। অথচ মার্চ মাস পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে, ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কে প্রবৃদ্ধি হলেও কোনো ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। এই তিন খাতে যথাক্রমে ১১.২৫ শতাংশ, ১৩.৬৬ শতাংশ ও ৭.৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বছরের ৯ মাস পেরিয়ে আয়করে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
ভ্যাটে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।আর শুল্ক বা কাস্টমসে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। সেবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা; আর এনবিআর আদায় করেছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে গত মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৬৭ শতাংশ। এর আগে জানুয়ারিতে ৩.২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।মার্চে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার ৫০ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা।চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে বলে জানা যায়।