ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এ আইনের তোয়াক্কা না করে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’ শিরোনামে দেয়াল লিখন এবং বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদল। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’ শিরোনামে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে দেয়াল লিখনের সামনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতেও দেখা গেছে তাদের।
এর আগে পহেলা বৈশাখে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রদলের ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে।
স্বাধীনতা দিবসে ছাত্রদলের ব্যানারে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুষ্পস্তবক অর্পণ করলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এছাড়াও ‘রুয়েট জাতীয়তাবাদী স্পন্দন’ নামক ফেসবুক পেজ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের ব্যানারে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, যেখানে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে কোনো সংগঠনের দেয়াল লিখন, ব্যানার টানানো বা দলীয় পরিচয়ে শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া শুধু নিয়মভঙ্গই নয়, এটি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত। এমন কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রশাসনিক নীতিমালাকে অবজ্ঞা করার সামিল। তিনি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এসব অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আব্দুর রাজ্জাককে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের পর বর্তমান প্রশাসন দায়িত্বভার গ্রহণ করে ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদ্বারা অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অদ্য ১০/০৮/২০২৪ খ্রি. হতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থীর সকল ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন এবং তার কোনো অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হলো। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১০৫তম সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আদেশ জারি করা হয়েছে।