Image description
জ্বালানিসংকট, বিদ্যুৎ ঘাটতি, গরমের ছোবল

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট এখন সরাসরি আঘাত হানছে বিদ্যুৎ খাতে। আর তার সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। উৎপাদন সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকার পরও গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

গতকাল বুধবার দিনের বেলা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুতের বিশাল এই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে। যার কারণে রাজধানী ঢাকায় এখনো তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রামগুলোতে এখন দিনে-রাতে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর ভারতীয় কম্পানি আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লোডশেডিং আরো বেড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে এই দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং জনজীবনে অসহনীয় দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।

রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়ছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়িয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া বিল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানির অভাবে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার সময় (ডে পিক) দেশে ১৫ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৪০ মেগাওয়াট। বিকেল ৪টায় ১৫ হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৫৬ মেগাওয়াট। তখন চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি ছিল প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট, যা চলতি বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ লোডশেডিং। পিজিসিবির তথ্য বলছে, গত বছরের এই দিনে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ লোডশেডিং ছিল ১৫৭ মেগাওয়াট। তবে গত বছরের এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে দেশে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট থাকলেও বাস্তবে জ্বালানি সংকটের কারণে এর অর্ধেকও উৎপাদন করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেশি বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়া। প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিটটি কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে এবং এটি পুনরায় চালু হতে আরো তিন থেকে চার দিন লাগতে পারে। এতে করে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি বেড়েছে।’

মো. জহুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকল্প হিসেবে জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ ও খুলনার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রেখে ঘাটতি কিছুটা পূরণ করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।’

প্রভাব পড়ছে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে

বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে প্রথমেই গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ কমানো হচ্ছে, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বর্তমানে সেই প্রবণতা আরো স্পষ্ট। পরিকল্পিতভাবে শহরকে লোডশেডিংমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হলেও গ্রামগুলোতে দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে গ্রামীণ জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে। গ্রামাঞ্চলের অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক উদ্যোক্তা বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের বড় আঘাত এসেছে কৃষি খাতেও। বিদ্যুত্চালিত সেচব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধানের চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক এলাকায় পানির অভাবে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ফলন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মাছের হ্যাচারিগুলোতেও উৎপাদন কমে গেছে।

বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক সংকটও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া ৪৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত সাত-আট মাস ধরে বিল পরিশোধ না হওয়ায় এসব কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা চরম সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন বিল পরিশোধ না হওয়ায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা জ্বালানি আমদানি করতে পারছেন না। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গতকাল ডেভিড হাসানাত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জ্বালানি তেল সংকটের কারণে আমরা পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে পারছি না। সরকারের কাছে আমাদের গড়ে আট মাসের বকেয়া আটকে আছে। বিপুল পরিমাণ বকেয়ার টাকা আটকে থাকায় আমরা জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারছি না। তেল সংকটের কারণে উৎপাদনে রেশনিং করা হচ্ছে এবং মোট সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে, যা শিগগিরই ২০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এতে লোডশেডিং আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। মে মাসে চাহিদা বেড়ে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হবে। ফলে লোডশেডিং আরো বাড়তে পারে।

জামালপুরে রাত-দিনে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং

তীব্র গরমের মধ্যে জামালপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, কোথাও আবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলাতেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৯৩ মেগাওয়াট। তবে পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কম। ফলে ১৩৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। সন্ধ্যার পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে মোমবাতি কিংবা চার্জলাইটের আলোতে পড়াশোনা করছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হৃদয় হাসান বলেন, গত দুই দিন ধরে তীব্র গরমের পাশাপাশি ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যত গরম পড়ছে তত বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। সকালে ১৯৩ মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে। আমরা পাচ্ছি ৬০ মেগাওয়াট। এ জন্য ১৩৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’ 

রংপুরে বিপর্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য

রংপুর বিভাগজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে কার্যত অর্ধেক দিনই বিদ্যুত্হীন থাকছেন গ্রাহকরা। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে। নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানি (নেসকো) সূত্র জানায়, রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৭২০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে একাধিকবার লোডশেডিং করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনাও ঘটছে। কোথাও কোথাও দিনে গড়ে মাত্র সাত-আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। এতে করে জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম সংকটে।

পীরগাছা উপজেলার নব্দীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সুলতানা বেগম জানান, তাঁর ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কখনো অন্ধকারে, কখনো গরমে পড়াশোনা করতে পারছে না।

রংপুরের নুরপুর এলাকার ঝালাই ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে ক্রেতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে নেসকোর রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় ১০০ মেগাওয়াটের কিছু কমবেশি সরবরাহ কমেছে। এ জন্য রেশনিং করে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

পাবনায় ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা প্রায় এক মাস ধরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের মাঝে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। দিনে-রাতে চলমান অব্যাহত লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। এই পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ২৪ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন।

তবে চাটমোহর পৌরসভা অন্তর্গত এড়িয়ায় উল্লেখযোগ্য লোডশেডিং না থাকলেও গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। এ ছাড়া শিশুরা ও বাড়িতে থাকা অসুস্থ বয়স্ক মানুষদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী বলেন,  কয়েক দিন ধরে লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। শুধু এই পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকেই লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে না, সারা দেশেই একই সমস্যা। 

পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও কমেছে

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পানি স্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে শুধু একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর এই একটি ইউনিট থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ  বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ২৪২ মেগাওয়াট।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমতে থাকে। আর পানির ওপর নির্ভরশীল এই কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধু ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে রুলকার্ভ অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে ৮৩.৮০ এমএসএল (মিনস সি লেভেল) পানি থাকার কথা থাকলেও বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেল ছিল ৭৭.৪৭ এমএসএল।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠের রফিকুল ইসলাম রফিক (রংপুর), রকিব হাসান নয়ন (জামালপুর), আব্দুল লতিফ রঞ্জু (চাটমোহর পাবনা) ও শংকর হোড় (রাঙামাটি)]