Image description

ঝালকাঠিতে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড–এর ভাসমান বার্জ ডিপোর কার্যক্রম। এতে একদিকে যেমন দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে ডিপোতে অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল—যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ ও আলোচনা।

সুগন্ধা নদীর বুকে নোঙর করে থাকা এই ভাসমান ডিপো একসময় ঝালকাঠি, বরিশাল, ভোলা, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। কার্যক্রম চালু থাকা অবস্থায় প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার লাখ লিটার ডিজেল এখান থেকে ডিলারদের মাধ্যমে নৌপথে বিভিন্ন হাট-বাজারে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু হঠাৎ করেই ডিপোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সংকটে পড়েন হাজারো গ্রাহক ও ব্যবসায়ী।

ডিপো সূত্রে জানা যায়, ভাসমান বার্জটির একটি ট্যাংকের তলায় ছিদ্র ধরা পড়ায় সেটি তেল সংরক্ষণের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় ডিপোটি বন্ধ রাখা হয়। পরে বার্জটি সংস্কারের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয় এবং গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সংস্কার শেষে ফের ঝালকাঠিতে নোঙর করে। তবে এখনও পুরনো বার্জে থাকা তেল নতুনভাবে স্থানান্তর করা হয়নি। বর্তমানে ডিপোর ছয়টি ট্যাংকে প্রায় ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

ডিপো কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে তেলের সঙ্গে ময়লা বা গাদ জমে যাওয়ায় সেটি সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়। নতুন তেল আসার পর তা মিশিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে স্থানীয় ডিলার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিপোটি বন্ধ থাকায় তাদের বাইরে থেকে বেশি দামে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলছে। অনেকের মতে, সংরক্ষিত তেল পরীক্ষা করে ব্যবহারযোগ্য হলে তা বাজারে ছাড়া গেলে অন্তত সাময়িকভাবে সংকট কিছুটা লাঘব করা সম্ভব।

ডিপোর সিনিয়র কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার জানান, বার্জে ছিদ্র থাকায় ঝুঁকি নিয়ে তেল সরবরাহ করা সম্ভব ছিল না। মেরামতের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ডিপোটি ইতোমধ্যে ঘাটে ফিরে এসেছে। আগামী মাস থেকেই কার্যক্রম চালু হতে পারে। এটি চালু হলে জেলার তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সরবরাহ কেন্দ্র দীর্ঘদিন অচল থাকা শুধু স্থানীয় বাজার নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলেছে। তাই দ্রুত ডিপোটি চালু করা এবং সংরক্ষিত তেলের গুণগত মান পরীক্ষা করে যথাযথ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। দুই বছর ধরে অচল পড়ে থাকা এই ডিপো এখন শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং একটি থমকে থাকা সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতীক—যা দ্রুত সচল করার দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।