Image description

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ‘ছাত্র’ শব্দের জায়গায় ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘটেছে সংঘর্ষ।


এ ঘটনার জেরে আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দেখা গেছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে ‘গুপ্ত রাজনীতি’র বিরুদ্ধে দেয়াল লিখন এঁকেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সরব’ উপস্থিতি দেখিয়েছেন ঢাবি শিবিরের নেতাকর্মীরাও।

আজ বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ডাকসু ভবন, মধুর ক্যানটিন, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া, সূর্যসেন হলের দেয়ালসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে হয়েছে দেয়াললিখন। রয়েছে ‘গুপ্ত যাদের অবস্থান, তাদের বাড়ি পাকিস্তান পাকিস্তান’, ‘গুপ্ত রাজনীতি চলবে না’, ‘গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক’, ‘গুপ্ত রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস চাই’ ইত্যাদি বাক্য।

ছাত্রদলের এমন কর্মসূচি ঘিরে থেমে নেই ইসলামী ছাত্রশিবিরও। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দুই নেতা আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেন একটি ভিডিও, যা পরে ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ‘গুপ্ত যাদের অবস্থান, তাদের বাড়ি পাকিস্তান পাকিস্তান’ সংবলিত একটি দেয়াল লিখনের সামনে ‘গুপ্ত’ শব্দ বলে হাসাহাসি করছেন ঢাবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন এবং প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেফতাহুল মারুফ। পরে সেই ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার দেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও।

  

ঢাবি ছাত্রদলের ২৪২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে স্থান পাওয়া একজনকে উদ্দেশ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইদুজ্জামান নূর আলভী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থী সেজে শিবিরের পানির ফিল্টার ভেঙে পরে ছাত্রদলের কমিটিতে পদ পেলেও সেটা আসলে গুপ্ত রাজনীতি না!’

এদিকে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার কিংবা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আনিসুর রহমান আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা যে একটি নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছিল—তা অমূলক ছিল না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাস্তবতা তুলে ধরছে ভিন্ন চিত্র। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির প্রভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা ও অস্থিরতা কমার বদলে কোথাও কোথাও আরও বেড়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ, ভয় ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে—যা একটি সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।’