বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশজুড়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং তাদের হাতে ছাত্রশিবিরের জনশক্তির রক্তাক্ত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে ভিন্ন কিছুর প্রত্যাশা থাকলেও গতকালের চট্টগ্রাম গর্ভনমেন্ট সিটি কলেজের নিন্দনীয় ঘটনা সেই প্রত্যাশায় ধ্বস নামিয়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আরো অস্থিতিশীলতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
যে ৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেল একচেটিয়া জয় পেয়েছিল, সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার লক্ষ্যে বহুবিধ পরিকল্পনা আছে বলেও জানা যাচ্ছে। দলীয় শিক্ষকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নসহ নানাক্ষেত্রে ছাত্রলীগ ও আ.লীগপন্থীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও সেই ইংগিত দিচ্ছে।
এরপরও প্রকৃত সত্য হলো, ছাত্রদল ক্যাম্পাসে কতটা ভয়ংকর হযে উঠতে পারে, সেই ঘটনা নবীন প্রজন্মের কাছে এতদিন ইতিহাস হয়ে থাকলেও এই প্রজন্ম গতকালের ঘটনার বদৌলতে তা বাস্তবে আবারও দেখার সুযোগ পেল।
রগকাটা নিয়ে সারাদিন যারা কথা বলে তারাই যে আবার শিবির কর্মীর গোড়ালি কেটে বিচ্ছিন্ন করার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটাতে পারে আবার সেই ছাত্রকে বহিরাগত দাবি করে তার গোড়ালি কেটে ফেলাকে জাস্টিফাই করতে পারে- তাও এই প্রজন্মের জানা দরকার ছিল।
তবে জুলাই থেকেই আমরা জানি, এই প্রজন্ম খুব ডেনজারাস। তাদেরকে আন্ডার এস্টিমেট করলে ধরা খাওয়া অপরিহার্য। শেখ হাসিনার পরিণতি আমরা জানি। আর নতুন এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রী কবে কোথায় কী ভঙ্গিমায় যা বলেছেন, তা নিয়ে যেভাবে রিলের পর রিল বানিয়ে ট্রল করা হচ্ছে, তাতে বোঝা যায়, নতুন প্রজন্ম এবারও ছাড় দেয়ার মুডে নেই।
তার ওপর এইসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম যদি আগামী দিনেও চলমান থাকে তাহলে পাবলিকের সামনে আর মুখ দেখানোর জায়গাই থাকবে না।