জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নিজের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে কার্যকর এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সংসদে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) হাতিয়া থেকে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়তে যাচ্ছিলেন বলে সংসদকে জানান তিনি।
হান্নান মাসউদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পিকার অধিবেশনে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে এই সংসদ সদস্যকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দেন সালাহ উদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে জরুরি জনগুরুসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (৭১-বিধি) নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জানমালের নিরাপত্তা চান।
জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া হান্নান মাসউদের নোটিশটি সংসদে গৃহীত হয়নি। স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নোটিশের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।
নোটিশের ওপর কথা বলার সুযোগ দিলে হান্নান মাসউদ জানান, একটি দুর্গম দ্বীপাঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি, যেখানে ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের রাজত্ব চলছে। নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে তিনি অন্তত পাঁচবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি তার জন্য মসজিদে দোয়া করায় ইমামের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, যিনি দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে হান্নান মাসউদ দাবি করেন, তার ওপর সরাসরি অস্ত্র হাতে কোপাতে আসার ভিডিও এবং প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক শেল্টারে রাখা হচ্ছে। ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এসময় হান্নান মাসউদ প্রশ্ন তোলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়ে যদি আমি এবং আমার নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা না পান, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে?
গাড়িতে এখনও সন্ত্রাসীদের দেওয়া কোপের দাগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিটিভির সাংবাদিককে কুপিয়েছে এমন চিহ্নিত আসামিরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এই ঘটনার সংসদীয় তদন্তের পাশাপাশি নিজের ও তার কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
হান্নান মাসউদের এই বক্তব্যের আগে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, “মাননীয় সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তার জানমাল, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় যে নোটিশটি দিয়েছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গেলে তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয় এবং ২৯ মার্চ সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে তাকে অনলাইনে অশালীন ভাষায় আক্রমণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
ডেপুটি স্পিকার বলেন, একজন সংসদ সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা ও হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদিও কার্যপ্রণালি বিধির ১৬৫(২) ও ১৬৫(৪) উপবিধির কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে নোটিশটি গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবু বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিবেশনে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন।
হান্নান মাসউদকে থানা দেখালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, “সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের উত্থাপিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিটি বিষয় আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। যদি হামলার এই ঘটনাগুলো সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার অপরাধীদের ছাড় দেবে না।”
সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কেবল এই সংসদ সদস্যই নন, হাউজের যেকোনও সদস্য যদি এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন বা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় থানাকে অবহিত করা হয়। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শীর্ষনিউজ