জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা মোহাম্মদ ইসহাক সরকার জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) যোগদানের বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, এনসিপি তার যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানিয়েছিল।
এশিয়া পোস্টকে ইসহাক সরকার বলেন, ‘এনসিপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা সত্য।’
কেন কী বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিলেন ও কীভাবে এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দু-এক দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব।’
আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বেশি সংখ্যক মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি থাকতে হয়েছে, তাদের মধ্যে পুরান ঢাকার ইসহাক সরকার অন্যতম। ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া ইসহাক সরকার ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। পরবর্তীতে তিনি যুবদলেও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত সময়ে রেকর্ডসংখ্যক ৩৬৫টি মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে ও আত্মগোপনে কাটিয়েছেন তিনি। পরে ঢাকা-৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন ইসহাক সরকার।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পরে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমানের কাছে হেরে যান ইসহাক সরকার।
ইসহাক সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকার ৩৬৫টি মামলা করে। এর মধ্যে ১১ মামলায় তার সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি আত্মসমপর্ণ করে কারাগারে যান। পরে তিনি এসব মামলা থেকে জামিনে মুক্তি পান।
বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, দলের প্রতি তার কোনো অভিযোগ, রাগ বা ক্ষোভ নেই। দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তিনি তা মেনে নিয়েছেন। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের জন্য লড়াই করেছেন, কষ্ট সহ্য করেছেন। বহু নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। তার ভাতিজা ১৩ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। বংশাল থানার সাতজন নেতা গুম হয়েছিলেন। নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু ইনসাফ পাননি বলে ওই বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন ইসহাক সরকার।