ব্যাপক উৎসাহের সাথে টক শো দেখলাম অনেক গুলো।
সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সঞ্চালক, সরকারের ডিপ লেয়ারে কানেক্টেড আলোচক, এক্টিভিস্ট --- এদের অনেকেই ব্যাপক উৎসাহের সাথে টিভিতে গিয়ে একমত হচ্ছে যে ফ্রি স্পিচ এর একটা লিমিট থাকতে হবে, এবং সেই লিমিট কতদূর এটা সরকার ঠিক করবে বা সরকার ফ্রি স্পিচ নিয়ন্ত্রণ করলে তাদের সমর্থন থাকবে।
সব চাইতে পরিতাপের বিষয় হলো যারা এই কথা গুলো বলছেন, তাদের অনেকের পরিবার লন্ডনে কিংবা আমেরিকায় আছে এবং থাকবে চিরকাল।
তারা নিজেরাও আমেরিকা এবং লন্ডনে থেকে গেছেন, এবং একারণে খুব ভালো মতো জানেন ফ্রি স্পিচ প্রটেকশন জিনিসটাই এসেছে সরকারের বিরুদ্ধে, পাবলিক ফিগারদের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার থেকে।
তারা জানেন পলিটিকাল ফিগারের (পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের) এগেইনস্ট এ যা ইচ্ছা বলার অধিকার আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত, জাস্ট ভায়োলেন্স এর বা খুনের উস্কানি দেওয়া ছাড়া। পাবলিক ফিগার হলে যা ইচ্ছা গালি খাওয়া একটা পার্ট অফ জব রেসপনসিবিলিটি। এবং আনফর্চুনেটলি, ইয়েস, পরিবার সহ গালি খাওয়া যাবে -- এবং হ্যা বউ ও বাচ্চা ইনক্লুডেড থাকবে -- শুনতে খারাপ লাগবে, অশোভন হবে, নেক্কারজনক হবে, কিন্তু আইনের চোখে অপরাধ হবে না এই সব গালি গালাজ। এটাই আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড।
ফ্রি স্পিচ প্রটেকশন এসেছেই পাবলিক ফিগার এবং পাবলিক স্পেস এর জন্যে। প্রাইভেট স্পেসে, প্রাইভেট কোম্পানির ভেতরে ফ্রি স্পিচ এর প্রটেকশন এমনিতেই নাই।
যেমন, আপনি রাস্তায় দাড়ায় প্রধান মন্ত্রীকে যা ইচ্ছা গালি দিতে পারবেন, কিন্তু শেরাটন হোটেলে ঢুকে যদি গালি দেন, এবং শেরাটন কর্তৃপক্ষ যদি সেটা করতে না দেয়, আপনাকে হোটেল থেকে বের করে দেওয়া যাবে। কারন হোটেল প্রাইভেট স্পেস, সেখানে তাদের নির্দেশ আপনার মানতে হবে। এইটাই ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড।
এতো গুলো বিদেশ ফেরত, বিদেশে বসবাসরত আলোচক এই মামুলি জিনিসটা কীভাবে নিজেরা শেখেন নাই আমার জানা নাই। উনার যদি এটা আসলেই না জানেন, তাহলে ব্যাপারটা আরও দুঃখজনক , কারণ তাদের প্রবাস জীবনই কিন্তু বৃথা হয়ে যাবে এই অজ্ঞতার কারণে। আর তারা যদি ইচ্ছা করে দেশে ফিরে গিয়ে দেশকে লোয়ার স্ট্যান্ডার্ড এর ফ্রি স্পিচ প্রটেকশন দিতে চান আর নিজেরা ভালো স্ট্যান্ডার্ড এর ফ্রি স্পিচ বিদেশে উপভোগ করতে চান, সেটা হবে হিপোক্রেসি।
আমেরিকায় মানুষ ইদানীং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেংটা কিংবা ডায়পার পড়া মূর্তি নিয়ে ঘুরছে। জাতীয় নেতার মূর্তির গলায় জুতার মালা, পতাকা পোড়ানো, এমনকি জাতীয় নেতাকে ডিম মারাও প্রটেক্টেড ফ্রি স্পিচ এর আওতায় পড়ে। এই আইন এর কারণেই কিছু দিন আগে ইউনূসের লোকজনকে ভাইরাল ভিডিওতে ডিম মেরে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে একজন আওয়ামী নেতা নিউ ইয়র্কে।
আপনারা যারা বিদেশে থেকে গেছেন, এবং নিজের বাচ্চাদের এই সব ফ্রি স্পিচ উপভোগ করার জন্যে লন্ডনে কিংবা আমেরিকায় রেখেছেন, শুধু তাদের প্রতি অনুরোধ, পপুলার গালি "মুনাফিক" , "হিপোক্রেট" এই সব না খেতে চাইলে, নিজের সন্তানদের জন্যে যেমন ফ্রি স্পিচ ভালো মনে করেন, দেশের ইয়াং ছেলে মেয়েদের জন্যে সেই একই লেবেলের ফ্রি স্পিচ এর ব্যাবস্থা করবেন।