Image description

২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে ব্যাটিং ধসে জয়ের কাছে গিয়েও হেরে যায় স্বাগতিকরা। তুলনামূলক অনভিজ্ঞ কিউইদের কাছে ২২১ রানে অলআউট হয় মেহেদী হাসান মিরাজের বাংলাদেশ।

 

ইনিংসের শুরুতেই নাথান স্মিথের দারুণ বোলিংয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন, আর পরের বলেই শূন্য রানে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে দল।

 

এই অবস্থায় ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। শুরুতে ধৈর্য ধরে খেললেও ধীরে ধীরে তারা ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফেরান। সাইফ ছিলেন কিছুটা আক্রমণাত্মক, আর লিটন খেলেছেন পরিমিত ও দায়িত্বশীল ইনিংস।

 

দুজন মিলে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। এই জুটির সময় স্পিনারদের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে চাপ কাটিয়ে ওঠে স্বাগতিকরা।

 

 

তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আসে মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। উইল ও’রুর্কের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে আউট হন সাইফ হাসান। ৫৭ রান করে দলকে ভরসার জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

 

এরপর লিটন দাস কিছুটা লড়াই চালিয়ে গেলেও বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। ৪৬ রান করে ডিন ফক্সক্রফটের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন তিনি।

 

মাঝের ওভারগুলোতে তাওহীদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের ধীরগতির ব্যাটিংয়ে প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকে। শেষ ১০ ওভারে ম্যাচ হাতের বাইরে চলে যেতে শুরু করে।

 

শেষদিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে পুরোপুরি ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। রিশাদ, মিরাজ, শরিফুলরা কেউই বড় শট খেলতে পারেননি। যদিও তাওহীদ হৃদয় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান, তবে তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। শেষ ব্যাটার হিসেবে তিনি ৫৫ রানে আউট হন আর বাংলাদেশও থামে ২২১ রানে। ফলে ২৬ রানের হার দিয়ে সিরিজ শুরু হল বাংলাদেশের।

 

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস, আর জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের।

 

শেষ ৫-৬ ওভারের ব্যাটিং ব্যর্থতাই মূলত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়, যেখানে সেট ব্যাটার থাকা সত্ত্বেও বড় শটের ঘাটতি স্পষ্ট ছিল।

 

শেষদিকে ব্লেয়ার টিকনারের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং নিয়মিত উইকেট নেওয়াই ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।

 

কিউইদের পক্ষে টিকনার ৪টি ও নাথান স্মিথ নেন ৩টি উইকেট।

 

এর আগে নিউজিল্যান্ডের হয়ে হেনরি নিকোলস ৬৮ ও ডিন ফক্সক্রফট ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন। মাঝের ওভারে জুটি গড়ে তারা বড় স্কোরের ভিত গড়েন। শেষদিকে কিছুটা ধাক্কা খেলেও নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে কিউইরা। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ দুটি করে উইকেট নেন, আর মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট শিকার করেন।