Image description

অনেকেই মনে করেন ৩০ বছরের আগে সন্তান নেওয়াই আদর্শ। তবে এই ধারণা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কেউ যদি একটি সন্তান চান, তার পরিকল্পনা একরকম হবে; আবার দুই বা তিনটি সন্তান চাইলে আরও আগে থেকেই চেষ্টা শুরু করা প্রয়োজন হতে পারে। বাচ্চা নেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো ‘সঠিক বয়স’ নেই—এটি নির্ভর করে দম্পতির পরিকল্পনা, সন্তানসংখ্যা এবং শারীরিক অবস্থার ওপর। এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা।

বয়সের সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতার পরিবর্তন

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত প্রজনন ক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে না। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তান ধারণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

নারীরা জন্মের সময়ই নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়, যা সময়ের সঙ্গে কমতে থাকে। জন্মের সময় প্রায় ১০–২০ লাখ ডিম্বাণু থাকলেও ৩৭ বছর বয়সে তা নেমে আসে প্রায় ২৫ হাজারে। অন্যদিকে পুরুষদের শরীরে বয়ঃসন্ধিকাল থেকে প্রতিদিন নতুন শুক্রাণু তৈরি হয়।

কখন চেষ্টা শুরু করবেন

ডা. তাসনিম জারা বলেন, কখন সন্তান নেওয়ার চেষ্টা শুরু করবেন তা নির্ভর করে আপনি কয়টি সন্তান চান এবং কতটা সফলতার সম্ভাবনা চান তার ওপর।

একটি সন্তান চাইলে তুলনামূলক দেরিতে শুরু করলেও চলতে পারে
একাধিক সন্তান চাইলে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ভালো

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি ৯০ শতাংশ সফলতার সম্ভাবনা চান, তবে তাকে তুলনামূলক কম বয়সেই চেষ্টা শুরু করতে হবে। আর কেউ যদি জীবনের অন্যান্য বিষয় যেমন পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দেন, তারা কিছুটা দেরিতে শুরু করলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারেন।

কোন লক্ষণগুলোতে সতর্ক হবেন

কিছু শারীরিক লক্ষণ সন্তান ধারণে সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। যেমন—

মাসিক অনিয়মিত হওয়া
দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকা
অতিরিক্ত রক্তপাত বা তীব্র ব্যথা
মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ

এসব লক্ষণ পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা এন্ডোমেট্রিওসিস-এর ইঙ্গিত হতে পারে, যা গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া থাইরয়েডজনিত সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

কী করলে সম্ভাবনা বাড়ে

সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

সঠিক সময়ে সহবাস
স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা
দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা
ধূমপান পরিহার

ডা. জারা বলেন, যেকোনো সন্দেহ বা সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

সবশেষে তিনি বলেন, সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তবসম্মত ধারণা ও সঠিক তথ্য জানা থাকলে পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

 

শীর্ষনিউজ