Image description

সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেছেন, দেশে যতগুলো পেশাজীবী সংগঠন রয়েছে, তার মধ্যে বার কাউন্সিল নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হঠাৎ করে মধ্যরাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্থগিত করা হয়েছে। জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বার কাউন্সিলের সদস্যদের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থগিতের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সারা দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে নির্বাচনী প্রচারণা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বার সমিতির অনুরোধ।

নির্বাচন স্থগিতের এই দুটি কারণ আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, এমন প্রশ্ন তুলে পান্না বলেন, যদি এগুলো গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে প্রকৃত কারণ কী?

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, অল্প কিছুদিন পরই ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন রয়েছে, এরপর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনও আছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে যদি জ্বালানি সংকট সমস্যা না হয়, তাহলে শুধু বার কাউন্সিলের ক্ষেত্রে কেন এই অজুহাত তৈরি করা হলো?

পান্না বলেন, জ্বালানি সংকটের কথা বলে বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতের পর এনসিপির সংসদ সদস্য আক্তার হোসেনও সংসদে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি আরো বলেন, সরকার নিজেই বলছে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তাহলে কেন জ্বালানি সংকটের অজুহাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত করা হলো?

তিনি আরো প্রশ্ন রাখেন, বলা হচ্ছে অন্যান্য নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য নির্বাচনের সঙ্গে বার কাউন্সিলের নির্বাচনের সম্পর্ক কী?

পান্না বলেন, এর আগে ৪২টি জেলা ও ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে কাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রায় সবাই সরকারদলীয় নেতা।

অথচ বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে ২০ দফায় বলা ছিল, আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত বা মৃত ব্যক্তি ছাড়া কাউকে অপসারণ করা হবে না এবং কোনো নির্বাচন বিলম্বিত করা হবে না। সেখানে বিএনপি নিজেরাই নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা। শুধু জাতীয় নয়, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর নির্বাচনেও নগ্ন হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও নির্বাচনে হস্তক্ষেপের নজির রয়েছে।

সাংবাদিকদের সংগঠনেও এমন হস্তক্ষেপ দেখা গেছে।

নতুন সরকার যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে আবারও একই অভিযোগ উঠবে, এটি আমাদের জন্য নির্মম পরিহাস ছাড়া কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলছেন, সেখানে স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কিছু প্রার্থী ছিলেন, যাদের জয়ের সম্ভাবনা ছিল। সেই আশঙ্কা থেকেই সরকারপন্থি আইনজীবী নেতারা নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন, এমন মন্তব্যও করেন পান্না।