Image description

রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, সরাসরি মানবিক ও প্রশাসনিক তদারকির এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

হজ ফ্লাইট শুরুর প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ক্যাম্পে উপস্থিত হন তিনি।

পরিদর্শনের শুরু থেকেই হজযাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের যাত্রা প্রস্তুতি, থাকা-খাওয়া, চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। শুধু শুনেই থেমে থাকেননি, প্রতিটি সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।

পরিদর্শনের এক পর্যায়ে মন্ত্রী জানতে পারেন, এক নারী হজযাত্রী বাথরুমে পড়ে আহত হয়েছেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং আহত ওই নারীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে নিজেই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর চিকিৎসার সার্বিক তদারকি করেন। এ ঘটনায় উপস্থিতদের মধ্যে মন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততা ও মানবিকতা বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

হজ ক্যাম্পে থাকা-খাওয়ার মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেক হজযাত্রী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। খাবারের মান উন্নয়নে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই সেবার মান নিয়মিতভাবে নিজেই তদারকি করবেন, যাতে হজযাত্রীরা কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন।

এ সময় ডরমিটরিতে মশার উপদ্রব এবং মশা তাড়াতে ধূপ ব্যবহারের কারণে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন হজযাত্রীরা। এসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

ধর্মমন্ত্রী ক্যাম্পে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বলেন, 'হজযাত্রীরা আল্লাহর বিশেষ মেহমান। তাঁদের সেবা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি ইবাদতের অংশ। কোনোভাবেই যেন তাঁরা কষ্ট না পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, হজযাত্রীরা যেন নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে তাঁদের পবিত্র সফর সম্পন্ন করতে পারেন—এ বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক ও ঘন ঘন পরিদর্শন হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অতীতে এভাবে নিয়মিত উপস্থিত থেকে সরাসরি তদারকির নজির খুব কমই দেখা গেছে। প্রতিদিন ক্যাম্পে গিয়ে হজযাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা খতিয়ে দেখা, সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া—এসব উদ্যোগে সেবার মান ইতোমধ্যে দৃশ্যমানভাবে উন্নত হচ্ছে।

হজ ক্যাম্পে দায়িত্বশীলদের মতে, মন্ত্রীর এই সক্রিয় তদারকি শুধু প্রশাসনিক নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—হজযাত্রীদের সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। এতে সংশ্লিষ্ট সবাই আরও দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

এদিকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শুরু হচ্ছে এবারের হজযাত্রা। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম হজ ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ফ্লাইটের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে হজ কার্যক্রমের সূচনা হবে। উদ্বোধনী এই আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 
ঢাকা টাইমস