একজন পিএইচডিধারী অধ্যাপককে মন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন। শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘পিএইচডি করা অধ্যাপক মন্ত্রীর পিএস হলে, হয় তিনি অধ্যাপক হওয়ার যোগ্য নন নতুবা যিনি তাকে পিএস বানিয়েছেন তিনি মন্ত্রী হওয়ার যোগ্য না।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীর পিএস বা একান্ত সচিব হওয়া অত্যন্ত লোভনীয় একটি পদ। এখানে ক্ষমতা এবং অর্থ দুটোর সম্ভবনাই অফুরন্ত। একান্ত সচিব পদের একটা ধার আছে কারণ সে মন্ত্রীর একান্ত কাছের মানুষ। তাই মানুষ ধরে নেয় তার অনেক ক্ষমতা। সেই ক্ষমতাকে দুর্নীতিতে রূপান্তর করে বেশি অর্থ বানানোর অবারিত সুযোগ থাকে। একজন অধ্যাপক কিভাবে এই পদে যেতে পারে আমি ভেবে আশ্চর্য হই। তাও আবার যার পিএইচডি আছে। এই পিএইচডির তাহলে কি মূল্য আছে?’
ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘শিক্ষক পিএইচডি করে গবেষণা করার জন্য এবং একই সাথে ছাত্রদের গবেষণা শেখাবার জন্য। উনিতো অধ্যাপক এবং পিএইচডি ডিগ্রী দুটোকেই লিজ্জিত করলেন। এই অধ্যাপক লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে হলেন মন্ত্রীর পিএস। মন্ত্রীর সাথে সেই একান্ত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এখন পেলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব। এটিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কাঙ্খিত ও লোভনীয় পদ।’
তিনি বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী কিভাবে একজন পিএইচডি করা অধ্যাপককে এই পদে নিয়োগ দিলেন? একজন পিএইচডি করা অধ্যাপক যখন মন্ত্রীর পিএস হতে চাইবে ধরেই নিতে হবে সে অধ্যাপক হওয়ার অযোগ্য এবং একই সাথে পিএস হওয়ারও অযোগ্য। কে যোগ্য আর কে অযোগ্য এইটা বুঝা একজন মন্ত্রীর সবচেয়ে বড় যোগ্যতা আর না পারা তার অযোগ্যতা।
তিনি আরও বলেন, অনেক চাকুরীতে দেখেছি অধিক যোগ্যরা দরখাস্ত করলেও চাকুরী দেওয়া হয় না। অধিক যোগ্যতার কেউ তার যোগ্যতার চেয়ে কম যোগ্যতার পদে যখন কেউ যেতে চায় তখন ধরেই নেওয়া হয় কিছু একটা মতলবতো আছেই। বাংলাদেশে কিন্তু এইটা এখন হচ্ছে। যেখানে অবৈধ টাকা কমানোর সুযোগ আছে সেখানে অনেক বড় ডিগ্রীধারিরাও চাকুরী করতে দ্বিধা করে না।’