শূন্যরেখা সিলেটের জকিগঞ্জের অমলসীদে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে প্রায় ১২৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। ইতিমধ্যে দাপ্তরিক সব কাজ শেষ করার পর দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে তার আগে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশন এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে বৈঠক আহ্বান করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা হওয়ার কারণে দু’দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার পর প্রকল্পটির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উৎপত্তিস্থলে সুরমা ও কুশিয়ারার নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদে এ তথ্য দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন ওই এলাকার সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান। প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প এবং এর বর্তমান কার্যক্রমের বিবরণ সংসদকে জানান পানি সম্পদ মন্ত্রী।
সিলেট হচ্ছে দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চল। ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা। ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে উৎপত্তি হওয়া খরস্রোতা বরাক দিয়ে আসাম ও মিজুরামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সিলেটের জকিগঞ্জের শূন্যরেখা অমলসীদে এসে শেষ হয়েছে। আর ওই স্থান থেকে উৎপত্তি হয়েছে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদী। পানি বিশেষজ্ঞরা জানান, বরাক দিয়ে পানির সিংহভাগ অর্থাৎ ৮০ শতাংশই টেনে নেয় কুশিয়ারা নদী। আর বাকি ২০ শতাংশ পানি টানে সুরমা। তবে সুরমা নদী সারিসহ আরও কয়েকটি নদীর পানি বেসিন হিসেবে কাজ করে। অমলসীদে সৃষ্টি হওয়া দু’টি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার স্রোতের কারণে এলাকার মানুষের কাছে ভয়ঙ্কর। যখন ঢল নামে তখন তলিয়ে যায় মাইলের পর মাইল এলাকার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। তীব্র হয় নদীভাঙনও। এতে করে মানচিত্র হারাচ্ছে বাংলাদেশও। এ নিয়ে গতকাল দুপুরে সংসদে প্রশ্ন উত্থাপনকালে এমন কথা জানান, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান। তিনি সুরমা ও কুশিয়ারার নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মানচিত্র রক্ষা করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের সুরমা-কুশিয়ারা নদী মানচিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশে ভাঙছে ও অপর রাষ্ট্রে ভরছে। বাংলাদেশের অনেক বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে বলেও জানান। এমপি এ সময় একাত্তরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্মৃতি বিজড়িত ওই এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য দ্রুত কাজ করার তাগিদ দেন। পরে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
২০২২, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যায় প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে এ অঞ্চলের মানুষ বেঁচে আছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধ, দু’টি নদীর অববাহিকার উন্নয়ন ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গত বছর প্রায় ১২৭৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালে শুরু হয়ে ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। এ প্রকল্পের অধীনে জকিগঞ্জের ১৩টি স্থানে ৪ দশমিক ৩৩ ও কানাইঘাটের ৪টি স্থানে ১ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার কাজ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে নদীভাঙন স্থান সুরক্ষিত হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রী সংসদে জানান, যেহেতু ওই স্থানটি বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের শূন্যরেখা। এজন্য ইতিমধ্যে এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফ পর্যায়ে একটি ফ্ল্যাগ মিটিং হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের জয়েন্ট রিভার কমিশনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া দু’দেশের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের একটি বৈঠকও হবে। এ দু’টি বৈঠকের পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দরপত্র আহ্বান করা যাবে। তবে পানি সম্পদ মন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংসদে উত্থাপিত এ সংক্রান্ত নোটিশটি প্রত্যাহার করে এমপি মুফতি আবুল হাসান জানান, সামনে বর্ষার মৌসুম। ডাইক উপচে গোটা সিলেট অঞ্চল প্লাবিত হয়। সুতরাং বন্যা আসার পূর্বে আপাতত ব্লক ফেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।