Image description

ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলেনি জ্বালানি তেল—এমন হতাশার গল্প এখন মাগুরা শহরের নিত্যদিনের চিত্র। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে যানবাহন চালক ও কৃষকরা।

মাগুরা শহরের ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা তোহিদুর রহমান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,
“১০ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি, এখনও তেল পাইনি। তেল না পেলে বাজারে যেতে পারব না, আর বাজারে না গেলে চাকরিটাই থাকবে না। তাই খাবার নিয়েই বের হয়েছি—আজ তেল নিয়েই ফিরতে হবে।”

তোহিদুরের মতো শত শত মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছেন। অনেকেই মাঝপথে জানতে পারছেন—তেল শেষ। এতে করে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে।

পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় পাম্প খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে এর মাঝেই কিছু প্রাইভেট কার ও জরুরি সেবার যানবাহনকে তেল নিতে দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে বণ্টন ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

শহরের প্রায় সব পাম্পেই একই চিত্র। দীর্ঘ লাইনে বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন গ্রাহকেরা।

এভাবে প্রায় দেড় মাস ধরে চলমান এই সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবহন চালক ও কৃষকরা। তাদের জীবিকা সরাসরি নির্ভর করছে জ্বালানির ওপর।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেরুন্নছা বলেন,
“জেলায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল রয়েছে এবং সুষ্ঠুভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিটি পাম্পে পুলিশ মোতায়েন আছে এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি চলছে।”

তিনি আরও জানান, অনিয়মের অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবুও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে বাড়ি ফিরছেন সাধারণ মানুষ। ফলে মাগুরায় জ্বালানি সংকট নিয়ে জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।

শীর্ষনিউজ