ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ পাইয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ওএসডি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তার স্থলে পরশুরাম রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু নাছের জিয়াউর রহমানকে ছাগলনাইয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের দুই পাশে এবং জঙ্গল মিয়া রাস্তার মাথা (মোকামিয়া ব্রিজ) থেকে মধুগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকায় বনায়নের লক্ষ্যে ৩৪ জন উপকারভোগীর সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বন বিভাগ।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, গাছ বিক্রির মোট আয়ের ৫৫ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে উপকারভোগীদের পাওয়ার কথা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই এলাকার গাছগুলো সরকারিভাবে বিক্রি করা হয়।
তবে কত টাকায় এবং মোট কতটি গাছ বিক্রি হয়েছে, সে বিষয়ে উপকারভোগীদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপকারভোগীদের অভিযোগ, গাছ কাটার পর পাওনা টাকা দ্রুত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুন মিয়া। তবে অফিসিয়াল নথিপত্র তৈরি, রেজিস্ট্রারে নাম নথিভুক্ত করা ও সিল মারার খরচ বাবদ তিনি সদস্যদের প্রত্যেকের জন্য ৩ হাজার টাকা করে দাবি করেন।
পরে সমঝোতার মাধ্যমে ৩২ জন সদস্য ২ হাজার টাকা করে মোট ৬৪ হাজার টাকা কমিটির সভাপতির মাধ্যমে ওই কর্মকর্তাকে দেন। এক মাস পার হতেই আবার ‘কেরানি খরচ’ ও ‘কাগজপত্রের জন্য’ সদস্যদের কাছে আরও এক হাজার টাকা করে মোট ৩২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ও গাছ বিক্রির সঠিক তথ্য জানতে রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুন মিয়ার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ছাগলনাইয়ার ইউএনওর কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই রেঞ্জ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওএসডি করা হয়েছে। তাকে অভিযোগের বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।