Image description

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, “আওয়ামী লীগ করার কারণে জমির ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেতারা।” ভিডিওটিকে ‘বরিশাল উজিরপুর’ এলাকার ঘটনা হিসেবেও প্রচার করা হচ্ছে।

দেখুন এখানে, এখানে, এবং এখানে

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। ধান কাটার ভিডিওটি মূলত সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার স্নানঘাট ইউনিয়নের অমৃতা গ্রামের। রাজনৈতিক কোনো কারণে নয়, বরং গ্রামের গরু-ছাগল রাখার জায়গা দখলমুক্ত করতে গ্রামের সবাই মিলে ওই পতিত জায়গার ধান কেটে দিয়েছে, যাতে প্রতিবছর মানুষ সেখানে গবাদিপশু রাখতে পারেন।

ভিডিওটি রিভার্স ইমেজ সার্চে এমডি হাবিবুর রহমান নামে হবিগঞ্জের এক ব্যক্তির আপলোড করা একই ভিডিও পাওয়া যায়।

ভিডিওতে তিনি বলেন, “এই পতিত জায়গা হচ্ছে গরু-ছাগলের খামারের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা। প্রতিবছর তাদের নিষেধ করা হলেও তারা এখানে (চাষ) করে। তাই এবার গ্রামবাসীরা মিলে প্রতিবাদ করছে (ধান কেটে দিচ্ছে)।”

স্থানীয় বাসিন্দা তোফায়েল ইসলাম রানা নামে এক ব্যক্তি দ্য ডিসেন্টকে জানান, “গ্রামের কিছু লোক প্রতি বছরই গ্রামের পতিত জায়গায় ধান চাষ করে। তাদেরকে মানা করা সত্ত্বেও তারা মানতে রাজি নয়। যে জায়গায় গ্রামের সবার গরু-ছাগল রাখা হয়, সেখানে ধান চাষ করার কারণে গ্রামের হাজার হাজার গরু-ছাগল রাখার জায়গা থাকে না। তাই গ্রামের সবাই মিলে এই পতিত জায়গার ধান কেটে দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এখানে ধান চাষ না করে এবং প্রতিবছর মানুষ এই জায়গায় গরু-ছাগল রাখতে পারে।”

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি (আওয়ামী লীগ করার কারণে ধান কেটে দেওয়া) সঠিক নয়। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির কোনো বিরোধ নেই। এটি একটি পরিত্যক্ত জায়গা ছিল। স্থানীয় লোকজন জায়গাটি পরিষ্কার করেছে। এটি সম্পূর্ণ একটি গুজব।”

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নয়; বরং হবিগঞ্জের বাহুবলে গোচারণ ভূমি রক্ষা করতে গ্রামবাসীর নেওয়া একটি সম্মিলিত উদ্যোগকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দিয়ে ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে।