চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রসারের জন্য চার দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। পাকিস্তানে প্রথম দফা আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আরও এক দফা আলোচনায় বসার সম্ভাবনার মধ্যেই এই ঘোষণাটি আসে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদন অনুসারে, এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, শি মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রস্তাবটি পেশ করেন।
প্রস্তাবটিতে কী বলা হয়েছে?
এই পরিকল্পনায় চারটি বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশগুলোকে তাদের সম্পর্ক উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত, তিনি দেশগুলোকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের নীতিকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে এটি অবশ্যই লঙ্ঘন করা যাবে না। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
তৃতীয়ত, তিনি বলেন যে বিশ্বকে বিশৃঙ্খলার দিকে ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হলে জাতিসংঘের ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখা অপরিহার্য।
সর্বশেষে, শি বলেন যে সকল দেশের উচিত উন্নয়নের সাথে নিরাপত্তার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা এবং চীন আঞ্চলিক অগ্রগতিকে শক্তিশালী করতে তার আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টাগুলো তুলে ধরবে।
ইরানের বন্দর অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন
এদিকে, মঙ্গলবার ইরানের বন্দর অবরোধের ঘটনায় চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণের জন্য অভিযুক্ত করেছে এবং শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বেইজিংয়ের গঠনমূলক ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেছেন।
১১ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ ডুবিয়ে দেয়ার হুমকি দেন।
ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং শুধুমাত্র চীনসহ ইরানের মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোকেই এটি পার হওয়ার অনুমতি দিচ্ছে।
চীনের ওপর ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি
ট্রাম্প আবারও চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। রোববার বলেছেন যে, চীন তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিলে তিনি দেশটির পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ট্রাম্পের হুমকির সমালোচনা করেছেন। এই প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সপ্তাহের শেষ নাগাদ আবারও দ্বিতীয় দফা আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তা কোথায় হতে পারে সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন -ইসরাইলের অভিযানের পর শান্তি আলোচনায় বসতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো চেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি