Image description

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়ায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জন্মসালসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের একক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) হাতে। একইসঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা সংকুচিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, আগামীতে একজন নাগরিকের ত্রুটিপূর্ণ যেকোনো স্তরের জন্মসাল এনআইডি ডিজির সম্মতি ছাড়া সংশোধন হবে না। নতুন বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে জন্মসাল সংশোধনের সব আবেদনই কেন্দ্রীভূতভাবে ডিজি কার্যালয়ে নিষ্পত্তি হবে। এর আগে ১০ বছর বা তার ওপরে কারো জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে এনআইডি উইংয়ের ডিজির অনুমোদন লাগত। এ বয়সের কম কেউ সংশোধন চাইলে ডিজির অধস্তন কর্মকর্তারা করতে পারতেন। এখন তারা আর এ অনুমোদন দিতে পারবেন না। জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত (সংশোধন, যাচাই এবং সরবরাহ) প্রবিধানমালায় সংশোধনী এনে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ সংকুচিত হওয়ায় নাগরিকের ভোগান্তি কিছুটা বাড়তে পারে।

নতুন বিধানে এনআইডি সংশোধনের কিছু ক্ষেত্রে সহজীকরণও করা হয়েছে। এর ফলে ঠিকানা স্থানান্তরের পিতা-মাতার এনআইডি অনুযায়ী ওই ঠিকানায় কেউ স্থানান্তরিত হতে চাইলে দ্রুত আবেদনটি নিষ্পত্তি হবে। এ ঠিকানার বাইরে স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে স্থানান্তর চাইলে তাকে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হবে। ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। কোনো নাগরিক ধর্মান্তরিত হলে সংশ্লিষ্ট ধর্মগুরুর (ইমাম, পুরোহিত, পাদ্রি, ভিক্ষু) প্রত্যয়ন থাকলে কালবিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদনটি সুরাহা হয়ে যাবে। এছাড়া একাধিক জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকলে একটি রেখে বাকিগুলো বাতিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের অনিয়ম ঠেকাতে সহায়ক হবে বলে ইসি মনে করছে।

সূত্র জানিয়েছে, নতুন নিয়মে এনআইডির তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার একটি বৈধ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একজন ব্যক্তির একাধিক সনদ থাকলে সেটি সংশোধন সাপেক্ষে এনআইডির তথ্য সংশোধন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভুয়া তথ্য দিয়ে সংশোধনের প্রবণতা ঠেকাতে এ কড়াকড়ি আনা হয়েছে।

ইসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়েই এসব সংশোধন করা যেত। এখন সবকিছু কেন্দ্রে চলে যাওয়ায় প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। তবে, ভিন্নমত পোষণ করেছেন এনআইডি উইংয়ের ডিজি এ এস এম হুমায়ুন কবির। আমার দেশকে তিনি বলেন, জন্মতারিখ সংশোধন নিয়ে মাঠ পর্যায়ে বেশ অসুবিধার কথা শোনা যেত। আবেদনকারীদের দিক থেকে নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যেত। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ সংশোধনের একক ক্ষমতা এনআইডির ডিজির ওপরে এসে পড়েছে। তবে নিয়মনীতির মধ্যে চলে আসলে কমিশন পরে মাঠ পর্যায়ে এটা পুনর্বহাল করতে পারেন।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে একদিকে ভুয়া সংশোধন কমবে। অন্যদিকে অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ জনভোগান্তি বাড়াতে পারে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমার দেশকে বলেন, নতুন নীতিমালায় ভালো কিছু উদ্যোগ যেমন রয়েছে, তেমনি জটিল ইস্যু রয়েছে। জন্মতারিখ সংশোধনে একক ক্ষমতা নাগরিকদের ভোগান্তি বাড়াবে।