জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চৈত্রসংক্রান্তি ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ব্যাঙের বিয়ের এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনের সামনে এ লোকজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কাঠ ও বাঁশের তৈরি ব্যাঙের মোটিফ ব্যবহার করে লোকজ রীতি মতে এই কাল্পনিক বিয়ের আয়োজন করা হয়। কাল্পনিক এ বিয়েতে বরপক্ষ হিসেবে অংশ নেয় নতুন কলাভবন এবং কনেপক্ষ হিসেবে পুরাতন কলাভবন।
চৈত্রের শেষ বিকেলে নতুন কলাভবন থেকে বিয়ের গান বাজিয়ে একটি ব্যাঙকে বর সাজিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে পুরাতন কলাভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গ্রামবাংলার প্রচলিত রীতির মতো কনেপক্ষ গেট আটকে দেয় এবং ৫ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দাবি করে। বরপক্ষ তা দিয়েই গেট অতিক্রম করে।
বর মঞ্চে বসার পর কনেপক্ষ কাগজের তৈরি কনে ব্যাঙ নিয়ে আসে।
গ্রামবাংলার প্রচলিত রীতির মতো দুই পক্ষের মধ্যে চলে রসিকতা । অনুষ্ঠানে বরপক্ষকে মিষ্টিমুখ করাতে পরিবেশন করা হয় মুড়ি ও বাতাসা। পরে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে ‘পান-চিনি’ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
চৈত্রের তীব্র খরায় বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে দেওয়ার গ্রামবাংলার একটি লোকজ রীতি প্রচলিত আছে। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ যৌথভাবে এ আয়োজন করে থাকেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ব্যাঙ প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী, যা বৃষ্টির আগমনী বার্তা দেয়।