Image description

কক্সবাজারের উখিয়ায় গ্রেপ্তার হওয়া এক নারীর সঙ্গে তার ছয় বছর বয়সী শিশু মাইরা মনিকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে পুলিশ বলছে, পরিবারের অনুরোধেই শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, শিশুটিকে কোনো মামলায় আসামি করা হয়নি। তার মায়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। সে কারণেই মায়ের সঙ্গে শিশুটিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামে পরোয়ানাভুক্ত আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উখিয়া থানায় মামলা করে। মামলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সালাহউদ্দিনের বাবা জাফর আলম (৭৮) ও দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এজাহারে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামিম এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নয় বছরের নিচে কোনো শিশুর কর্মকাণ্ড অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। সেই বিবেচনায় একটি শিশুকে গ্রেপ্তার করা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক সাইদ মোহাম্মদ আনোয়ারও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে থানায় আটক রেখে পরে আদালতে পাঠানো শুধু আইনের পরিপন্থী নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও অবমাননা।

এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের আইনে নয় বছরের নিচে কোনো শিশুকে ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা যায় না। সে প্রেক্ষাপটে একটি শিশুকে মামলার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা বা আটক রাখা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিক দিক ও মৌলিক নীতিগুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) রকিবুল হাসান বলেন, ছয় মাসের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে ধরতে গেলে তিনি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় দুই নারী ও একজন বৃদ্ধকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।