ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় পাকিস্তানি পক্ষ বিস্ময় প্রকাশ করেছে। এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে সিএনএন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেরেনা হোটেলে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মুখোমুখি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘সাধারণ ফর্মুলা’র কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তাই ইসলামাবাদ আশা করেছিল, কয়েক দিনের ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনা সম্ভব হবে।
কিন্তু এক দিনেরও কম সময়ের আলোচনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা দেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে। এতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে হতাশা ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়।
আলোচনার সংক্ষিপ্ত সময়কাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়িয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। ইরানের আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ইরান গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু প্রতিপক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র) শেষ পর্যন্ত আলোচক দলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের যুক্তি ও নীতিমালা বুঝেছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, তারা আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারবে কি না।’
এদিকে পাকিস্তানি সূত্রগুলো সিএনএনকে জানিয়েছে, উভয় পক্ষের আলোচনায় বোঝা গেছে, যুদ্ধ শুরুর আগের ২৭ ফেব্রুয়ারির পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো আগ্রহই যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের মধ্যে নেই।
তবে ইসলামাবাদ এখনো আশা করছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও একই বার্তা দিয়ে বলেছেন। তার মতে, আলোচনা ছিল ‘গভীর ও গঠনমূলক’, এবং পাকিস্তান ভবিষ্যতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ করিয়ে দিতে প্রস্তুত।