Image description

সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

 

রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

 

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শফিক আহমেদের চেম্বারের অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা শাম্মী।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গতকাল (শনিবার) তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছেন তার ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক।

 

 

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (টেকনোক্রেট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

১৯৩৭ সালের ১৬ জুলাই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে তার জন্ম। শশীদল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা শেষে তিনি কুমিল্লা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৫৩ সালে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৫৫ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ভূগোল বিষয়ে বিএ (অনার্স) ও ১৯৫৯ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৬৩ সালে সিটি ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং ১৯৬৪ সালে কিংস কলেজ লন্ডন থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে লিংকনস ইন থেকে ‘কলড টু দ্য বার’ হয়ে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ সনদ লাভ করেন।

 

পেশাজীবনে তিনি ১৯৬৭ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরে ১৯৮৯ সালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি ১৯৯৯-২০০০ ও ২০০৮–২০০৯ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

 

শিক্ষাক্ষেত্রেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি ১৯৭৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সিটি ল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও আইন বিভাগের পরীক্ষক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।

 

২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ঢাকার ইন্দিরা রোডে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী অধ্যাপক ও সমাজকর্মী মাহফুজা খানম ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট মারা যান। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে ও মেয়ে চিকিৎসক, আর ছোট ছেলে মাহবুব শফিক পেশায় আইনজীবী।